Posts

₪ নারী [post no: 46]

- মেডাম কি একা থাকেন? - আপনার টাকাটা - ওইটা তো নেয়াই যাবে। তবে যাই বলেন, আপনার স্বামী খুবই অন্ধ বুঝলেন তো। নয়তো আপনার মতো বউরে এরকম একা ফেলায়ে চইলে যাইতে পারে বলেন। -.... - বলেন তো রাতে সঙ্গী হিসেবে আমি এসে যাই, একাকীত্ব আর থাকবে না। এবার আর নিজেকে আঁটকে রাখতে পারলো না নীলু। চেঁচিয়ে উঠে বললো, - আপনি আপনার টাকা নিয়ে এই মূহুর্তে বেরিয়ে যাবেন, নয়তো জুতোপিটে করে বের করবো। - বেশি তেজ কিন্তু ভালো না মেডাম। - বের হবেন আপনি?? - মাসের শেষে কিন্তু আবার আসবো। বলেই শরীফ বেপারি টাকাটা নিয়ে বের হয়ে গেলো। নীলু সেখানে বসেই চোখের পানি ছেড়ে দিয়েছে। কিছুই যে করার নেই তার। শুধু পানি ফেলা বাদে। যে লোকটা একটু আগে বাড়ি থেকে বের হলো সে হলো শরীফ বেপারি, ব্যবসায়ী কিন্তু উচ্চ সুদের বিনিময়ে টাকা ধার দেয় মানুষকে। তারপর টাকা ফেরত না দিলে নানা ভাবে হয়রানি করে৷ নীলুর স্বামী, রাকিব আজ তিন মাস হয়েছে নিখোঁজ। রাকিব ছোট একটা ব্যবসা করতো, কিন্তু ব্যবসায়ে লস খেয়ে দিশেহারা হয়ে গেছে। এতো ধারকর্জ করেছে যে, সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে যাওয়াটাই সে বেটার মনে করেছে। কাপুরুষের মতো নিজে পালিয়ে, বউ, বাচ্চা আর বুড়ো বাবাকে ...

₪ দৃষ্টি ভঙ্গি বদলান [post no: 45]

ঐ কাউ টালির মা শুনছি কিছু? না গো রত্না ভাবী, বিহান বেলা, থেকে মেলা কাম করছি মুই। কি হইছে তোমরা শোনাও। ঐ যে মাষ্টারের বড় ছেলের, পোয়াতি বৌর বাচ্চা হইছে। ওর নাকি একখান হাত নাই। ইয়া আল্লাহ, এইডা কি কইলেন। হাত নাই, কার পাপে যে এমন হইল। মাষ্টারের বাড়ির সবাই তো খুব ভালো। হ্যা ঠিক কথা কহিল, নিশ্চিত কোন পাপের কারণে এমন হইছে। যাও মুই ফের সবাইকে জানিয়ে দেও। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো গ্রাম ছড়িয়ে পড়ল এই কথা। আমির মাষ্টারের ছোট বউমার ছেলে হইছে, একখান হাত নেই। আমির মাষ্টারের বাড়ি লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। আমির মাষ্টার মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। সব লোক দেখে গেল, সন্ধ্যায় বড় করে এক মিটিং ডাকল আমির মাষ্টার। আরমান তুমি কি এই সন্তান কে রাখবে না মেরে ফেলবে। কথাটি বলে অন্যান্য সন্তানের দিকে তাকিয়ে রইল আমির মাষ্টার। সবাই এক স্বরে বলল না ঐ পাপের ফসল আমাদের ঘরে জায়গা হবে না। আরমান নিচু স্বরে বলল শুধু সাতদিন সময় দেন বাবা আমার সন্তান ও আমার স্ত্রী কে নিয়ে চলে যাব বাবা। তা নিয়ে আপনাদের চিন্তা করতে হবে না। মহান আল্লাহ তায়ালা এই ইচ্ছা যে এই মানব শিশু আমার ঘরে দিয়েছে। আমি খুব খুশি আলহামদুলিল্লাহ...

₪ ১০০ টাকার ভালোবাসা [post no: 44]

২০×৫=একশো! বাসা ভাড়া ১৫০০, মিল খরচ ১৫০০, গাড়িভাড়া ৩০০, নাস্তা বাবদ ৫০০, ৪ শুক্রবার মসজিদে ৪০ টাকা, মোবাইলে ফ্লেক্সি ১০০ টাকা! প্রতি মাসে আমার জন্য বাবা বিকাশে টাকা পাঠায় ৪০০০ টাকা। এই ৪ হাজার টাকা উঠাতে আমার খরচ লাগে ৮০ টাকা। মোট খরচ-৪০২০ টাকা। ভার্সিটি থেকে বের হতে হতে এই হিসাবটা করতেছি কারণ আজ রিয়ার বার্থডে! এত দিনে আমি ওকে একটা কিছু দিতে পারিনি। কখনো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিক্রি করা চটপটি ফুচকার দোকান থেকে এক প্লেট চটপটি খাওয়াতে পারিনি । আমাদের রিলেশনের বয়স দু'বছর এর মাঝে ও আমাকে কতবার খাওয়াইছে কত গিফট দিছে তার হিসাব নেই। আমার বার্থডেতে রাত জেগে আমাকে ওইশ করা থেকে শুরু করে হৈ হুল্লোড় করে কেক কেটে আমার বন্ধু ওর বন্ধু সবাইকে খাওয়ানো, শেষে আমার হাতে একটা দামি ঘড়ি পড়িয়ে দেওয়া সহ সব করেছে। আমি বলেছিলাম, আমার বার্থডেতে তুমি অনেক কিছু করেছো আমি শুধু তোমাকে একদিন লাঞ্চ করাতে চাই। রিয়া কোনভাবেই রাজি হয়নি। আমি রাগ করে দুইদিন তার সাথে কথা বলিনি দেখে অবশেষে রাজি হয়েছে। একটা রেষ্টুরেন্টে এসে ওকে বললাম খাবার অর্ডার করো সে খাবারের ম্যানু দেখে সেই রেষ্টুরেন্টের সব থেকে কম দামের খাবার যেটা স...

₪ পালং শাক [post no: 43]

আজ কেমন জানি খুব ইচ্ছা করতেছে পালং শাক দিয়ে ভাত খেতে কিন্তু ৩০ টাকা দিয়ে যে পালং শাক কিনবো সেই টাকাও অামার কাছে এখন নাই।খুব লজ্জা লাগতেছে অামার ছোট ছেলের কাছে টাকা চাইতে।একসময় আমি অনেক টাকা ইনকাম করেছি ছেলেরা ঘুম থেকে উঠার আগে অামার স্ত্রী নুর জাহানের হাতে টাকা দিয়ে রাখতাম যাতে করে ছেলেরা স্কুলে যাওয়ার সময় টাকা নিয়ে যায়।অনেকটা লজ্জা নিয়ে ছোট ছেলের কাছে গিয়ে বলি- . _পালং শাক খেতে ইচ্ছা করতেছে, পালং শাক কিনতে বাজারে যাবো থাকলে কিছু টাকা দেয়। _আমার কাছে তো ভাংতি টাকা নাই বাবা। . ছেলের মুখ থেকে এই কথা শুনে খুব লজ্জা লাগছে।লজ্জা আর দ্বিতীয়বার টাকা চায় নাই। মাথা নিচু করে বাহিরে চলে গেলাম অাকাশের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আমি নিজে নিজেকে বলি- . _কার জন্য জীবনে এত কষ্ট করেছি যার কাছে টাকা চাইতে গেলে ভাংতি নাই এই কথা শুনতে হয়। . অামার ঘরে ফ্রিজ ভরা মাছ,হাসের মাংস সব আমার ছেলের ইচ্ছা কিনা, এগুলো থাকার পরেও অামার খুব ইচ্ছা পালং শাক দিয়ে ভাত খাবো কিন্তু টাকার জন্য সেই ইচ্ছাটা পূরণ হলো না।অামার অবস্থা আগে এমন ছিলো না অনেক সুখের ছিলো, কিন্তু এই সুখ তো আর সবসময় থাকে না।বড় ছেলে জব করতো লো...

₪ যৌতুকের বিয়ে [post no: 42]

নীলা আপার বিয়ে হচ্ছে না।আলাপ আসে বাড়িতে।খেয়ে দেয়ে চলে যায় বরপক্ষের লোক। বাড়িতে গিয়ে ফোন করে জানায় এই বিয়ে হবে না। আব্বা প্রথম প্রথম অবশ্য জিজ্ঞেস করতেন, কেন হবে না।তারা বলতো,মেয়েকে আমাদের পছন্দ হয়নি।মেয়ে ছোট। চেহারা ময়লা। দাঁত বড় বড়। এখন আর জিজ্ঞেস করেন না। নীলা আপা একটু ছোটই।তবে একেবারে ছোট না। দাঁতও খুব বেশি বড় না। চেহারা একটু মলিন।তবে এই চেহারাকে কিছুতেই খারাপ চেহারা বলা যাবে না।তার চেয়ে কম যোগ্য, ছোট খাটো,ময়লা চেহারার মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে এই গ্রামের। ওদের বাচ্চা খাচ্চাও হয়ে গেছে।আপার কেন হচ্ছে না এটা কেউ বুঝতে পারছে না। আত্মীয় স্বজনদের ধারণা কেউ জাদু করেছে আপাকে। আব্বা ফকির কবিরাজও দেখিয়েছেন,কাজ হয়নি।নীলা আপা আজকাল কারোর সাথে তেমন কথা বলে না। চুপচাপ বারান্দার ঘরটিতে দরজা বন্ধ করে বসে থাকে। মাঝেমধ্যে জানলা খুলে উত্তরের সবুজ ধানখেতে চোখ রাখে। দূরের শিমুল গাছটা দেখে। কোন কোন দিন নিজেকে অপয়া ভেবে কাঁদে।তার কান্নার আবার শব্দ হয় না। সে কাঁদে চাপা স্বরে। কান্নার সময় বালিশের পেটে মুখ ডুবিয়ে দেয়। তারপর আর কিছুতেই বাইরে যেতে পারে না কান্না। কিন্তু একদিন ঠিক আ...

₪ এক আপুর জীবনের কিছু অংশ [post no: 41]

বাসে উঠে রাহাত কে দেখে কয়েক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেলাম। প্রায় ৫ বছর পর সেই পরিচিত মুখটা দেখলাম। যেই মুখটা দেখার জন্য এক সময় পাগল ছিলাম, যার ভয়েস শোনার জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি। নিজেকে সামলে নিয়ে খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তার পাশের সিটে গিয়ে বসলাম। রাহাত ভেবেছে হয়তো আমি তাকে চিনতে পারিনি। অবশ্য ৫ বছরে নিজের আউট লুক পুরোটাই বদলে ফেলেছে সে, হঠাৎ দেখলে যে কেউ চিনতে না পারারই কথা। কে বলবে এই ছেলেটাই সেই ৫ বছর আগের সহজ সরল ছেলেটি যার শরীরে গ্রামের সেই মমতার ছোয়া মিশে ছিলো। রাহাত নিজে থেকেই কথা বলতে শুরু করলো - তুলি ভালো আছো? -হুম, অনেক তুমি কেমন আছো - আমাকে চিনতে পেরেছো! আমি ভেবেছিলাম হয়তো চিনো নি। - চিনেই পাশে এসে বসেছি - কোথায় যাচ্ছো? - অফিসে, তুমি? - আমিও - তোমার স্ত্রী সন্তান কেমন আছে? - ভালো - রাহাত আমি তোমাকে মনে মনে অনেক খুজেছি - কেনো - সরি বলার জন্য - সেইটার কি আজ আর প্রয়োজন আছে? - জানিনা, তবু নিজের মনের প্রশান্তির জন্য বলছি আমি সত্যি লজ্জিত। - ঠিকাছে, বাদ দাও তুমি সুখী হতে চেয়েছিলে, সুখ সবাই খোজে। - কিন্তু সে সুখের সন্ধান আমি আজো পাইনি রাহাত। - ব্যপার টা সত...

₪ বুয়া কাহিনী [post no: 40]

রম্য গল্পঃ গল্পঃবুয়া কাহিনী "সকালে ভিডিও কল করার কথা ছিলো করোনি..এখন আমি ব্যস্ত আছি,যাও..."(অভিমানের স্বরে)কথাটা বললো আমার বুয়া.. আমার বাসার কাজের বুয়া যারে ভাবতাম পেটে বোমা মারলেও একটা শুদ্ধ কথা বের হবে না।অথচ এতোদিন পর তার মুখে স্পষ্ট উচ্চারণের কথা গুলো শুনে আমি যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছি না.... হা করে বুয়ার দিকে তাকিয়ে আছি..বুয়া আমার দিকে তাকিয়ে এক গাল হেসে বললো- " আফা,আমার বফ কল দ্যাছিলো..."বলেই আমার ঘরে রাখা চার্জার দিয়ে মোবাইল চার্জে লাগিয়ে কাজ করতে গেল.. আমি হা করে তাকিয়ে ভাবছি.... আমার বাসার কাজের বুয়া..মেয়েটার বয়স আঠারো কি উনিশ হবে..পড়ালেখা করছে নাকি ক্লাস ফোর পর্যন্ত..দেখতে শুনতে মোটামুটি... ও সাজতে পছন্দ করে..আমার ড্রেসিং টেবিলের আয়নাতে বারবার নিজেকে দেখে.আমি আবার শখ করে কয়েকবার ওকে সাজিয়েও দিয়েছি..তারপর থেকে আমার ঘরে বেশু ঘুরঘুর করে.. যাই হোক..ও আবার আমার রুমে আসার পর আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম- "তোরে যে গত সপ্তাহে একটা খাম দিয়েছিলাম,পাশের বাসার ছেলেকে দেওয়ার জন্য দিয়েছিলি...??" ও মাথা চুলকায়, "দ্যাছিলাম তো আপা..." ...

₪ মনের বিভ্রান্তি [post no: 39]

১. সকাল থেকে ঘর পরিষ্কার করা শেষে চুলায় রান্না বসিয়েছে রাহেলা ৷ কিছুখন পর পর সেখান থেকে উকি দিয়ে ড্রয়িং রুমের দেয়ালে টানানো ঘড়িতে সময় দেখে নিচ্ছে ৷ সবে আড়াইটা বাজে ৷ পাঁচটার ফ্লাইটে ঢাকায় আসবে রাতুল ৷ রাহেলার এক মাত্র সন্তান সে ৷ বছর তিনেক ধরে আছে কাতারে ৷ অনার্স শেষ না করে সে চলে যায় কাতার ৷ জীবিকার সন্ধানে ৷ এত বছর পর ছেলে ঘরে ফিরছে ৷ এ কারনে মনের জমানো আনন্দ ফুটে উঠেছে মায়ের মুখে ৷ অস্থিরতা কাজ করছে তার সব কাজে ৷ ঘন ঘন ঘড়ি দেখছে, আর শেফালিকে বলছে, ‘কিরে শেফা৷ ঘড়ি নষ্ট নাকিরে? দেখতো ঘড়ির ব্যাটারি ঠিক আছে কিনা৷’ শেফা মৃদু হেসে বলে, ‘খালা ঘড়ি ঠিকই আছে৷’ রাহেলা চোখে মুখে অস্থিরতার সহিত বলে, ‘তবুও তুই ঘড়িটা একবার নেড়ে চেড়ে দেখে আয় ৷ মনে হচ্ছে ঘড়ির কাটা আটকে আছে ৷ ঘুরছে না৷’ শেফালি একটু শব্দ করে হেসে ঘড়ি হাতে নিয়ে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখে বলল, ‘সব ঠিকই আছে খালা ৷ ধৈর্য্য ধরেন ৷ কয়েক ঘন্টা পরই রাতুল ভাই চলে আসবে৷’ অস্থিরতার সাথে রাগ মিশিয়ে রাহেলা বলল, ‘তিন বছর ধরে ছেলেকে দেখি না ৷ এত বছর ধৈর্য্য নিয়ে থাকার পরেও আবার বলছিস ধৈর্য্য ধরতে৷’ শেফালী রাহেলাকে খালা বলে ডাকলেও তাদের...

₪ প্রাক্তন [post no: 38]

 আমি চাই তোমার সাথে একদিন হঠাৎ করেই দেখা হয়ে যাক, হঠাৎ করেই আমার অজান্তেই তুমি দেখে ফেলো আমাকে আর সেই পরিচিত নামে আবার নতুন করে একবার নামটি ধরে ডাক দাও। যখন নামটি ধরে ডাকবে, তখন অনেক টাই অবাক হয়ে যাবো কারণ তুমি আর আগের মতো নেই। মুখ ভর্তি দাড়ি চুল গুলো কেমন উসখুশকো কেমন একটা পাগলের মতো দেখতে হয়ে গেছো, আর যে চোখের দিকে তাকিয়ে সব অবহেলা গুলো চোখ বুঝে মেনে নিতাম সেই চোখের নিচে কি পরিমাণ কালি জমে গেছে। যে কেউ দেখলে বলবে কত বছর মনে হয় ঘুমাওনি তুমি, এমন অগোছালো হওয়ার কারণ কি? হঠাৎ বলে উঠবো কারণ তুমি তো পারফেক্ট মানুষ তোমার কি এমন হলে চলবে বলো তো। তুমি সব সময় বলতে মিমি পারফেক্ট না হলে মানুষের সাথে মিশবে কি করে, তোমাকে নিয়ে তো বন্ধু মহলে যাওয়া যায় না, কিসব পড়ে এসো পড়ো আমার সাথে দেখা করতে কখনও দেখেছো। আমি আমার মতো আছি সেই আগের মতো, শুধু সময়ের পরিবর্তনে তুমি বদলে গেছো। পাশের ছেলে টিকে দেখে অবাক হচ্ছো, অবাক হয়ে যাওয়ার'ই কথা সে তোমার চেয়ে বেশি পারফেক্ট তাই না, আল্লাহ যা করে ভালোই করে দেখছো.বাবা মায়ের মতে ওকে বিয়ে করেছি কিছু দিন আগে। সে সরকারি কলেজের একজন প্রফেসর হিসেবে ...

₪ সময়ের প্রতিশোধ [post no: 37]

রফিক সাহেব একজন ব্যাংকার। তার স্ত্রী আর একমাত্র মেয়ে তুলিকে নিয়ে তার ছোট্ট সংসারে সুখের কমতি ছিলো না। তুলি এইচ এস সি পরীক্ষার্থী। যেমন সুন্দরী তেমনি বুদ্ধিমতি মেয়ে তুলি! রফিক সাহেবের অনেক স্বপ্ন মেয়েকে নিয়ে, মেয়েকে মেডিকেলে পড়াবে তার অনেক দিনের শখ। হঠাৎ একদিন তুলি কোচিং করে আর বাসায় ফিরে নি। প্রতি দিন সন্ধ্যার আগেই চলে আসে কিন্তু আজ ফিরে নি, রফিক সাহেব আর স্ত্রী সালেহা বেগম খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লেন। মেয়েকে খুজতে রফিক সাহেব রাস্তায় বেরিয়ে পড়লেন। কোচিং রাস্তা বন্ধু বান্ধবের বাসা সব জায়গাই খুজলেন কিন্তু কোথাও তার মেয়েকে খুজে পেলেন না বাধ্য হয়ে থানায় জিডি করলেন। আশে পাশের মানুষ বলতে লাগলো হয়তো পালিয়ে গেছে, কিন্তু রফিক সাহেব ও তার স্ত্রী তা মানতে নারাজ। এভাবেই রাত কেটে গেলো। পরের দিন ভোরে পুলিশ রফিক সাহেব কে ফোন করে একটা হসপিটালের এড্রেস দেন আর দ্রুত সেখানে আসতে বলেন। রফিক সাহেব তার স্ত্রীকে নিয়ে পাগলের মতো ছুটতে ছুটতে হাসাপাতালে গিয়ে দেখেন তাদের মেয়ে তুলি আই সি ইউ তে। হুম কিছু বখাটে ছেলে তার আদরের মেয়েটিকে ধর্ষন শেষে রাস্তায় ফেলে যান, পুলিশ যখন বর্ণনা দিচ্ছিলেন রফিক সাহেব তখন থরথর...

₪ সিদ্দিক ভাইয়ের আত্নকাহিনী [post no: 36]

ভালোই ঘুম দিয়েছিলাম হঠাৎ বউ টানাহেঁচড়া করতে লাগলো যেন আমি কোনো ধানের বস্তা। মাথায় চট করে ব্যথা উঠলো। ঘুম থেকে এভাবে আচমকা জেগে উঠলে যে কারোরই মাথা ধরা স্বভাবিক। বউকে কতবার বলেছি একটু নরম হউ বুঝলা। মেয়ে মানুষ নরমই মানায় এমন চেচামেচি করা ভালো না। বউ তখন গলার সাউন্ড আরো দশ গুন বাড়িয়ে বলে, কি বললা? আমি চেচামেচি করি? ভালো কথা বললেই আমি চেচাই। এখন তো চেচামেচি লাগবেই? পনেরো বছর এক মেয়ের সাথে এক বাসায় থাকলে ভালবাসার কথা বললেও চেচামেচি লাগে। সবাই শুনেছেন কয় বছর? পনেরো বছর! হ্যাঁ ভাই এই দীর্ঘ পনেরো বছর ধরে আমার নিজের বাসায় আমি নিজেই শান্তি মতো অক্সিজেনটুকু গ্রহণ করতে পারি না। নিজের বাড়িতে ঢুকলেই মনে হয় কোনো জেলখানায় ঢুকছি। জেলখানাতেও মনে হয় এর থেকে বেশী শান্তি। আমার ইচ্ছা জেলখানায় একবার ঢুকে এর এক্সপেরিমেন্ট করবো। আমি চোখ কচলাতে কচলাতে জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে? -কী হয়েছে? বাথরুমে ভিজা লুঙ্গি রেখে এসে ঘুমিয়েছো কেন? ওটা কে শুকো দিবে প্রতিদিন? তোমার দাসী আমি? আমার শরীরকে শরীর মনে হয় না? আমার কাজ করতে কষ্ট হয়না? উঠে জলদি লুঙ্গি ধুয়ে শুকোতে দাও। আমি রোজ রোজ তোমার দাসীবৃত্তি পালন করতে পাড়বো না। আরো...

₪ শেষ আবদার [post no: 35]

কলিংবেল এর শব্দে দরজা খুলে যাকে দেখলাম তাকে এভাবে দেখার জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলাম না।আমি চোখে ভুল দেখছি না তো?না সত্যিই আমার সামনে এখন ফলমূল আর মিষ্টি হাতে মেঘলা দাড়িয়ে আছে।হ্যা, এটা সেই মেঘলা যার সাথে শেষ দেখা হয়েছিল ৪ বছর আগে। "আমাকে কি ভেতরে যেতে বলবে না?" মেঘলার কথায় আমার ভাবনাতে ছেদ পড়ল।ওকে সোফায় বসতে দিয়ে আমিও মুখোমুখি হয়ে বসলাম।মেয়েটা এখনো মাথা নিচু করে আছে।কি জানি,এখনো হয়ত অপরাধবোধ কাজ করছে ওর মাঝে। ঠিক ৪ বছর আগে এই মেয়েটাকে নিয়েই আমি হাজারো স্বপ্ন দেখতাম।অনেকটা সময় একসাথে কাটিয়েছি এই মেঘলার সাথে।কেন জানি ওর সবকিছুতেই আমি ভালোবাসা খুজতাম-ওর রাগ,অভিমানটাও আমি ভালোবাসা হিসেবেই নিতাম।ওর কথাবার্তা,আচার ব্যবহারে মনে হত সে আমায় অনেক ভালোবাসতো।আমি বেকার ছিলাম বলে মাঝ পথে আমার হাত ছেড়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল।আজ সেই মেঘলা আমার সামনে বসা কিন্তু এই মেঘলাকে নিয়ে আমার আর স্বপ্ন দেখার অধিকার নেই।২ বছর আগে শুনেছিলাম ওর বিয়ে হয়ে গেছে। "কেমন আছো, নীরব?" মেঘলার কথায় একটু লজ্জিত হলাম-অনেক্ষণ হলো ওকে বসিয়ে রেখেছি একটা কথাও বলা হয়নি। "এই তো আছি ভালোই।তুমি কেমন আছো?" ম...

₪ ঘটক [post no: 34]

দুধের গ্লাসে বিষ মিশিয়ে এক মহিলা তাঁর স্বামীর হাতে দিয়ে বললো। “ সারাদিন কাজ করতে করতে তুমি একদম শুকিয়ে যাচ্ছো। এখন থেকে প্রত্যেকদিন এক গ্লাস করে গরুর দুধ খাবে। এই নাও! ” লোকটা যেন আকাশ থেকে পড়লো, স্ত্রীর এতো ভালোবাসা দেখে! এক মাস হলো স্ত্রী তাঁর সাথে ভালো করে কথাই বলে না! আর হঠাৎ একেবারে গরুর দুধ! স্বামী উত্তর দিলো। “ ঝগড়া করলে দুজনে সমান সমান করি। দুঃখ কষ্ট দুজনে ভাগাভাগি করে নিই। আমি পুরো গ্লাস একা কীভাবে খাই? ” স্ত্রী আরো আদুরে স্বরে বললো। “ তোমার জীবন যৌবন তো আমার জন্যই পার করে দিলে। মাথার সব চুল পেঁকেই গেছে। অথচ তোমার দিকে আমি ভালো করে খেয়ালই করিনি! কোনো কথা শুনবো না আমি। তুমি একাই খাবে পুরোটা! ” স্বামীর চোখে পানি এসে গেলো! “ তুমি আসলেই আমাকে অনেক ভালোবাসো! যতই ঝগড়া করো না কেনো! ” স্ত্রী স্বামীর মাথায় হাত বুলিয়ে বললো। “ জানো না কী একটা কথা? মানুষ তাঁর সাথেই বেশি ঝগড়া করে। যাকে সে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে! ” স্বামী আবেগপ্রবণ হয়ে গ্লাসের দিকে তাকিয়ে দেখলো একদম খাঁটি গরুর দুধ। “ খাঁটি গরুর দুধ মনে হচ্ছে? ” “ হ্যাঁ গো, মুনিয়ার চাচা সকালে দিয়ে গেলো! ” স্বামী এবার ভালোবেসে বলল...

₪ বোকা মানুষদের গল্প [poat no: 33]

যে মানুষটা এত্ত ব্যস্ত যে, আমাদের এক মিনিটের জন্য, ফোন বা মেসেজ দিয়ে আমাদের খোজ নেয় না, আমরা তার জন্যই দিনের বেশির ভাগ সময় অপেক্ষা করি। যে মানুষটা আমাদের সাথে হয়ত করুণা করে, একটু সময় কথা বলে, সেই মানুষটার জন্যই আমরা সারাদিন ফোনের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি কখন মানুষটা ফোন দেয়। যে মানুষটা একবার আমাদের দিকে ফিরে তাকায় না, আমরা তাকেই এক নজর দূর থেকে দেখার জন্য, পথের মোড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িঁয়ে থাকি। যে মানুষটার কাছে আমাদের দুই পয়সা দাম নেই, সেই আমাদের কাছে অমূল্য রত্নের মত ........ যে মানুষগুলা দিনের পর দিন আমাদের দূরে ঠেলে দেয়, আমাদের খুব সুক্ষ ভাবে ইগনোর করে, আমরা বুঝি, বুঝেও তাকেই আমরা অযথা ধরে রাখার চেষ্টা করি !! যে মানুষটা আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে একবারও পেছন ফিরে তাকায় না, তার ভিতরে কোন অনুশোচনা বা আক্ষেপ কাজ করে না, আমরা তারই অপেক্ষায় পথের দিকে চেয়ে থাকি !! আমাদের চোখের পানি যাকে একদমই স্পর্শ করে না, আমরা তার জন্যই কাঁদি, পাগলের মত কাঁদি, গভির রাতে তার জন্য বালিশ ভেজাই! যে মানুষটা আমাদেরকে এক ফোঁটাও ভালোবাসে না, তার জন্য আমরা এক সমুদ্র, বুক ভরা, নি:স্বা...

₪ গার্মেন্টস কর্মী [post no: 32]

'রঙধনু হোটেলে যুবতীর রহস্যজনক মৃত্যু।' পত্রিকার পাতাতে চোখ বুলাতেই চমকে উঠে অাশফাক। সারা শরীর অনেকটা ঘামতে থাকে তার। মেয়েটার লাশটা দেখে গা শিউরে উঠছে বারবার। মেয়েটার অাকুতি বারবার তার কর্ণকুহরে ঢুকছিলো, 'আপনি আমার সাথে বেঈমানী করলেন? যান চলে যান। আপনাকে আর সহ্য হচ্ছে না আমার।' রাতের দৃশ্যগুলো চোখে ভাসার সাথে সাথেই গা বেয়ে দরদর করে ঘাম বের হতে লাগলো। শীতকাল আসছে, চারদিকে ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে। ঠান্ডার মধ্যেও সিলিং ফ্যানটা ফুল ভোল্টে চালিয়ে দিলো সে। গলাটা শুকিয়ে কাট হয়ে অাসছে। . 'স্যার ডেকেছেন?' নিলুর অাওয়াজ শুনে মুচকি হাসি দিয়ে তার দিকে তাকায় অাশফাক সাহেব। নিজের কাজ করা বাদ দিয়ে বলে, 'আজকে না আমাদের বাইরে ডিনার করতে যাওয়ার কথা?' স্যারের কথায় কিছুটা ইতস্তত করতে থাকে নিলু। এই গার্মেন্টসে দেড় মাস হলো সে জয়েন করেছে। গরীব মায়ের সংসারে এই বেতনের টাকাটা কিছুটা হলেও কাজে লাগে। যবে থেকে সে এখানে জয়েন করেছে তবে থেকে সে অাশফাক সাহেবের লোলুপ দৃষ্টির বলি হচ্ছে। তার কলিগরা তাকে বলে, 'তুই যাই বলিস নিলু, স্যার খুশি থাকলে তোর বেতন সাত হাজার থেকে দশে গিয়ে ...

₪ প্রেম [post no: 31]

ছোট্ট বেলায় কোনকিছু না বোঝে চন্দ্রাকে বলে ফেলেছিলাম,'এই চন্দ্রা, তুই না আমার গার্লফ্রেন্ড।' তখন এই কথার কী অর্থ আমিও বুঝি না,চন্দ্রাও বুঝে না। কিন্তু এখানে যে তার রেশমী দি ছিলেন তিনি শুনে জিহ্বায় কামড় দিয়ে বসলেন। তারপর আমার গাল টেনে ধরে বললেন,'ওরে বানর,এটুকুন বয়সেই এতো পেকে গেছিস!' আমি আবার ছোট থেকেই একটু ঝগড়াটে ছিলাম। কাউকে কথা বলতে ছাড়তাম না।রেশমি দিকেও সঙ্গে সঙ্গে বলে দিয়েছিলাম,'এই দিদি, আমি কী আম কাঁঠাল নাকি যে পেকে যাবো!' রেশমি দি আমার কথা শুনে ফিক করে হেসে উঠেন। তারপর ওখান থেকেই চেঁচিয়ে মাকে আর মাসিমাকে ডাকেন।ওরা ঘর থেকে বেরিয়ে আসলে দিদি বলেন,'পলক বাবুর তো গার্লফ্রেন্ড হয়ে গেছে গো মাসি! মা চোখ পাকিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলেন,'কে গো তোমার গার্লফ্রেন্ড পলক সোনা?' আমি ঝটপট বলে দিলাম,'চন্দ্রাই তো আমার গার্লফ্রেন্ড।' শুনে মা মাসি আর রেশমী দি একে অপরের উপর হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খান। আমি আর চন্দ্রা একে অপরের দিকে বোকার মতন তাকিয়ে থাকি। কারণ আমরা তাদের হাসির কারণ টা মোটেও বুঝতে পারি না যে! মা,মাসি দুজনের এক স্কুলে চাকরি ছিল ব...

₪ শেষ আবদার [Post no :- 30]

কলিংবেল এর শব্দে দরজা খুলে যাকে দেখলাম তাকে এভাবে দেখার জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলাম না।আমি চোখে ভুল দেখছি না তো?না সত্যিই আমার সামনে এখন ফলমূল আর মিষ্টি হাতে মেঘলা দাড়িয়ে আছে।হ্যা, এটা সেই মেঘলা যার সাথে শেষ দেখা হয়েছিল ৪ বছর আগে। "আমাকে কি ভেতরে যেতে বলবে না?" মেঘলার কথায় আমার ভাবনাতে ছেদ পড়ল।ওকে সোফায় বসতে দিয়ে আমিও মুখোমুখি হয়ে বসলাম।মেয়েটা এখনো মাথা নিচু করে আছে।কি জানি,এখনো হয়ত অপরাধবোধ কাজ করছে ওর মাঝে। ঠিক ৪ বছর আগে এই মেয়েটাকে নিয়েই আমি হাজারো স্বপ্ন দেখতাম।অনেকটা সময় একসাথে কাটিয়েছি এই মেঘলার সাথে।কেন জানি ওর সবকিছুতেই আমি ভালোবাসা খুজতাম-ওর রাগ,অভিমানটাও আমি ভালোবাসা হিসেবেই নিতাম।ওর কথাবার্তা,আচার ব্যবহারে মনে হত সে আমায় অনেক ভালোবাসতো।আমি বেকার ছিলাম বলে মাঝ পথে আমার হাত ছেড়ে দিয়ে চলে গিয়েছিল।আজ সেই মেঘলা আমার সামনে বসা কিন্তু এই মেঘলাকে নিয়ে আমার আর স্বপ্ন দেখার অধিকার নেই।২ বছর আগে শুনেছিলাম ওর বিয়ে হয়ে গেছে। "কেমন আছো, নীরব?" মেঘলার কথায় একটু লজ্জিত হলাম-অনেক্ষণ হলো ওকে বসিয়ে রেখেছি একটা কথাও বলা হয়নি। "এই তো আছি ভালোই।তুমি কেমন আছো?" ম...

₪ সেই মেয়েটি [post no: 29]

ভাইবা বোর্ডে যে সুন্দরী স্মার্ট মেয়েটি আমাকে একের পর এক প্রশ্ন বিদ্যুৎ গতিতে করেই যাচ্ছে, সে আর কেও নয় আমারই প্রাক্তন প্রেমিকা! তারই কোম্পানি তে জব এর জন্য এসেছি। যদিও না জেনে এসেছি, কিন্তু চাকরী টা আমার ভীষণ প্রয়োজন। ৩ বছর ধরে বেকার ঘুরে বেড়াচ্ছি কিন্তু কিছুতেই কোনো চাকরীর ব্যবস্থা করতে পারছিনা। এদিকে ঘরে অসুস্থ মা, প্রেগনেন্ট বউ, মাথায় পাহাড় সমান ঋণের বোঝা। ভেবেছিলাম এইবার হয়তো চাকরীটা আমার হয়েই যাবে, কিন্তু ভিতরে গিয়ে তানিয়াকে দেখে গলা শুকিয়ে গেলো। কারণ ও আমাকে কখনোই জবটা দিবে না, অবশ্য ওর জায়গায় আমি হলেও সেম কাজ করতাম। ভাইবা শেষে বের হয়ে হেটে বাসায় ফিরছি । আর ভাবছি বিধাতার লীলা খেলা বুঝা সত্যিই দায়। তানিয়া আর আমি একই ভার্সিটিতে একই ইয়ারে ভিন্ন ডিপার্টমেন্ট পড়তাম। কিভাবে কখন তার সাথে রিলেশনের শুরু হয়েছিলো মনে নেই। গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল সেই তানিয়া খালার বাসায় থেকে পড়তো, টিউশনি করে খরচ জোগাড় করতো। তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো ৩ বছর। আমি তার কাছ থেকে হাত খরচ নিতাম। নিজের সব কাজ তাকে দিয়ে করিয়ে নিতাম। বন্ধু মহলে কখনই তাকে পরিচয় করিয়ে দিতাম না , কারন সে আনস্...

₪ পৃথিবীর সবচেয়ে কুখ্যাত মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা (স্ট্যানফোর্ড প্রিজন এক্সপেরিমেন্ট) [post no: 28]

সালটা ১৯৭১ সাল । বাংলাদেশে তখন মুক্তিযুদ্ধ চলছে । পৃথিবীর প্রচুর আকাম নাকি জুলাই মাসে সংঘটিত হয়েছে । আমার জন্মও হয়েছে জুলাই মাসে । এই পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আলোচিত, সমালোচিত সাইকোলজিক্যাল এক্সপেরিম্যান্টটাও কিন্তু জুলাই মাসে সংঘটিত হয়েছে । আমরা সবাই জানি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি পৃথিবীর দশটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি । প্রফেসর ফিলিপ জিম্বারডো এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের একজন অধ্যাপক । আর স্ট্যানফোর্ড প্রিজন এক্সপেরিমেন্ট প্রফেসর ফিলিপ জিম্বারডোর করা একটি সাইকোলজিক্যাল এক্সপেরিম্যান্ট । কথা ছিলো এক্সপেরিম্যান্টটা চলবে ১৫ দিন । এখানে বেশ কিছু ভল্যান্টিয়ার লাগবে । তাই তিনি স্থানীয় একটি মিডিয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি রিক্রুটমেন্ট অ্যাড দিলেন । বলা হলো প্রত্যেককে প্রতিদিন ১৫ ডলার করে দেওয়া হবে । ১৯৭১ সালে কিন্তু দিনে ১৫ ডলার অনেক টাকা। তখন গ্রাজুয়েশন করছিলো, কিংবা হন্যে হয়ে চাকুরী খুজছিলো এরকম অনেকেই চাকুরীর জন্য অ্যাপ্লাই করলো । সবাইকে একটি সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে সিলেক্ট করা হলো । বেশ অনেকজনকে ওয়েটিং লিস্টে রাখা হলো । প্রফেসর ফিলিপ ...

₪ ছোট বোনের থেকে টাকা ধার [post no:-27]

Image
ছোট বোনের সেই ৫ টাকার ঋণ আজও পরিশোধ হলো না। একটা সময় ভিডিও গেমসের প্রতি চরম নেশা ছিল।দুই বেলা না খেয়ে,একবেলা ভিডিও গেমস খেললে পাহাড় সমান ক্ষুধা চলে যেতো। আমার প্রিয় গেমস ছিল 2002,97(যারা খেলছে তারা বুঝবে)।নেশা বলতে ভয়াবহ টাইপের নেশা। আমি ছিলাম আন্তর্জাতিক সনদ প্রাপ্ত অলস।আম্মা পিটায়েও কোনোদিন মাছ, মাংসের বাজারে নিতে পারে নাই।এই দিক থেকে আম্মু ব্যর্থ।কিন্তু পকেটে টাকা না থাকলে আমি নিজেই গিয়া বলতাম,আম্মু বাজার লাগবে?টাকা দেও বাজার করে আনি। আম্মু সব তরকারির দাম জানতো।দাম বলে দিতো আর সেই পরিমাণে টাকা দিতো।আমিও দোকানদারের সাথে খেচাখেচি কইরা দুই,পাচটাকা বাচাতে পারলে সেটাই আমি চুরি করতাম আর গেমস খেলতাম। আম্মু স্কুলে যাইতে রিকশা ভাড়া দিতো,টিফিনের টাকা দিতো।আমি হাইটা স্কুলে যাইতাম আর টিফিন খাইতাম বন্ধুদের টা চাইয়া চাইয়া।বন্ধুরাই বলতো খা,আমিও না করতাম না।খাওয়ার দিক থেকে আমি সবসময় অভদ্র।খাইতে বললে না করতাম না।হাত বাড়াই দিয়া বলতাম দে দোস্ত। আমার এমন খাওয়ার অভ্যাস দেখে বন্ধুরাও দূরে দূরে গিয়া খাইতো।সামনাসামনি পরলে, আমি যে খাবো এটা মিস নাই ওরাও জানে।মাঝে মাঝে তো কোচিং এর বেত বিক্রি করে দ...

₪ ছেলেকে দেয়া একজন বাবার উপদেশ। [ post no:-26]

Image
১) কখনও কাওকে ছোট করে দেখবা না, নইলে তুমি ছোট হয়ে যাবে। ২) জুতো সেলাই করলে পা বাড়িয়ে দিয়ো না, বরং জুতোটা নিজে একবার মুছে দিয়ো।। জুতো কিনতে গেলে নিজেই ট্রাইল দিয়ো। ৩) কখনও কামলা,কাজের, লোক,বুয়া বলে ডেকো না।। মনে রেখো তারাও কারওনা কারও ভাই বোন মা বাবা। তাদের ভাই আপা বলে ডেকো। ৪) পড়াশুনা করে জীবনে উন্নতো করো কিন্তু কারও ঘাড়ে পা দিয়ে উপরে উঠার চেষ্টা করো না। ৫) কাওকে সাহায্য করে পিছনে ফিড়ে চেয়ো না, সে লজ্জা পেতে পারে। ৬) সবসময় দেয়ার চেষ্টা করবা। মনে রাখবা প্রদান কারির হাত সর্বদা উপরেই থাকে। ৭) এমন কিছু করো না যার জন্য তোমার এবং তোমার পরিবারের উপর আঙুল উঠে। ৮) ছেলে হয়ে জন্মেছো, দায়িত্ব এড়িয়ে যেয়ো না। ৯) তোমার কি আছে তোমার গায়ে লিখা নেই, কিন্তু তোমার ব্যাবহারে আছে। ১০) কখনও মা কে শুনে বউকে এবং বউকে শুনে মাকে বিচারে কাঠগড়ায় দাড় করিও না। কাওকে ফেলতে পারবে না। ১১) যখন রাস্তায় হাটবে দেখে হাটবে, কেও পড়ে গেলো কি না। ১২) কারও বাসায় নিমন্ত্রন খেতে গেলেও বাসায় এক মুঠো ভাত খেয়ে যাবে। যাতে কারও বাড়ির ভাতের অপেক্ষায় না থাকতে হয়। ১৩) কারও বাসার খাবার নিয়ে সমালোচনা করবে না, ক...

₪ জীবন থেকে পাওয়া কিছু শিক্ষা নিয়ে লিখা [post no:-25]

১. জীবনে বড় হতে চান ? ব্যর্থ মানুষদের দেখুন। বোঝার চেষ্টা করুন তারা কি কারনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আপনি সেই ভুলগুলো ওভারকাম করুন। সফলকাম হবেন ইনশাআল্লাহ। ২. কাউকে ভালবাসতে চান ? তাকে প্রচুর হাসান। আপনি যদি কাউকে হাসাতে পারেন খুব দ্রুত তার হৃদয়ে আপনার জায়গা হয়ে যাবে। সুযোগ বুঝে দখল করে নিন আপনার জায়গা। কাউকে হাসালে সে আপনার প্রতি খুব তাড়াতাড়ি দুর্বল হয়ে পড়ে এটা বিজ্ঞানসম্মত। ৩. সুন্দর আর আকর্ষনীয় হতে চান ? প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে ছাদে চলে যান। তারপর আয়নায় নিজের চেহারা দেখে প্রশংসা করুন কমপক্ষে ১০মিনিট। এই সময় আপনার মস্তিষ্ক প্রচুর পরিমাণে হরমোন ছেড়ে দিবে। আপনি দিন দিন আকর্ষনীয় হওয়া শুরু করবেন। ৪. দুঃখ ভুলতে চান ? খুব দ্রুত নতুন বন্ধু বানিয়ে ফেলুন। তারপর তার কাছে সব শেয়ার করুন। দেখবেন অর্ধেক দুঃখ ভুলে গেছেন। এতেও কাজ না হলে চোখে পড়ে এমন জায়গায় লিখে রাখুন "পরীক্ষার আর বেশিদিন বাকি নেই" দেখবেন দুঃখ পালিয়ে কুল পাবেনা। ৫. আমার সাথেই এমন কেন হয় ? আপনার সাথে এমন হওয়ার কারণ আপনি চেষ্টা করেছেন। যারা চেষ্টা করেছে তারাই সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ হয়েছে এটাই প্...

₪ অতিথি ও আমি [post no:-24]

Image
চিপস খাচ্ছি আর টম এন্ড জেরি দেখছি আর একটু পর পর হেসে লুটোপুটি খাচ্ছি ৷ আমার পাশে বসে আম্মু কি যেন করছে আর আমার কান্ডকীর্তি আড়চোখে দেখে বিরক্ত হচ্ছে ৷ মাত্র টম জেরিকে ধরবে তো আমিও হাতটা বাড়িয়ে দিলাম জেরিকে বাঁচাতে ৷ অমনি উঠলো কলিংবেলটা বেজে৷ বাজাচ্ছে তো বাজাচ্ছেই থামার নাম গন্ধ নেই !!মেজাজ আমার চরম পর্যায়ে৷ আমার জেরিকে বাঁচাতে পারলাম না দুষ্টু টমের হাত থেকে !!আম্মু বললো "অরু দেখ গিয়ে কে আসছে!" অনেকটা বিরক্তি নিয়ে দরজাটা খুললাম ,একটা সুদর্শন ছেলে ফর্মাল ড্রেসআপে দাড়িয়ে,মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি ৷ ভাগ্যিস একটুর জন্য ক্রাশ খাইনি ৷ দেখে বেশ ভদ্র আর হাই ফেমিলির মনে হচ্ছে ৷ চোখে আবার সানগ্লাস ও আছে সাথে একটা ট্রলি ব্যাগ ৷ ওমনি আমার মাথায় আসলো শয়তানি বুদ্ধি ! একদৌড়ে রুমে গিয়ে ব্যাগ থেকে দুইটাকার একটা নোট এনে লোকটার হাতে দিয়ে বললাম "আমার কাছে এই দুইটাকা ছাড়া আর একটাকাও নেই ৷ পরের বার আসলে আরো বেশি দিবো কেমন?" ছেলেটা চশমা খুলে হা হয়ে তাকিয়ে আছে ৷তারপরই বলে উঠলো "মাথার তার কি একটা ছিড়া নাকি সবগুলোই ?"বলেই আমাকে একহাতে সরিয়ে টাকাটা আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে ভিতর...