Posts

Showing posts with the label ছোটগল্প

বিয়ের দিন বউ এর বড় বোন কে দেখে রীতিমত বড় রকমের একটা ধাক্কা খেলাম,

বিয়ের দিন বউ এর বড় বোন কে দেখে রীতিমত বড় রকমের একটা ধাক্কা খেলাম, এতো আমারই প্রাক্তন। স্কুলে পড়াকালীন সময়ে লিলির সাথে ২ বছর সম্পর্ক ছিলো, কিন্তু ছাত্রজীবনেই তার বিয়ে হয়ে যায়। এর পর আর যোগাযোগ হয়নি। এত বছর পর এভাবে দেখা হয়ে যাবে ভাবতেও পারিনি। না পারলাম কাউকে কিছু বলতে,  না পারছিলাম সহ্য করতে, ইচ্ছে করছিলো বিয়ের আসর থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু তা আর হলো না। বিয়েটা হয়েই গেলো। বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে টা করেই ফেললাম, কিন্তু কে জানতো এমন একটা বিব্রতকর পরিবেশে পরতে হবে। বিয়ে করে বউ নিয়ে বাড়ি ফিরছি,  আর চিন্তা করছি। বউকে কি সব আগেই বলে দিবো, নাকি গোপন রাখবো বুঝতেই পারছি না। অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিলাম, যাকে নিয়ে জীবন পার করবো তার কাছে এতো বড় সত্যি গোপন করা ঠিক হবে না। কিন্তু বলে দিলে যদি দুই বোনের মধ্যে কোনো সমস্যা হয়। বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হওয়াতে বিয়ের আগে আমার বউ মানে মিলির সাথে ভালোভাবে কথা বলারও সুযোগ হয়ে উঠেনি। আর সত্যি বলতে মেয়েটা এতো বেশিই সুন্দর এতো বেশি মায়াবতী যে আমি প্রথম দেখেই আর না বলতে পারিনি। মিলিকে আমার ঘরে রেখে গেলো ,  আমি রীতিমতো ঘামত...

রসিকতা

 বিয়ের পরদিন সকাল ঘুম থেকে জেগে পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখি বউ নেই বিছানায়, একটি সাদা কাগজ রয়েছে ভাজ করা। দেয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি বরাবর ছয়টা বাজে, এত সকাল বেলা যাবে কোথায়?। নিজের মনে প্রশ্নটা করার সঙ্গে সঙ্গেই হৃদপিণ্ড কেঁপে উঠলো। হে খোদা যা ভাবছি তা যেন না হয়, শকুনের দোয়ায় কি গরু মরে?। কাগজটা হাতে নিয়ে ভাঁজ খুলে লিখা গুলো পড়তে লাগলাম।  আমাকে ক্ষমা করে দিবেন, আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই নি, বাবা-মা জোর করে বিয়ে দিয়েছে। বিয়ের আগে আমি বাবা-মাকে বলেছিলাম আমার পছন্দের ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দিলে বিয়ের পরদিন পালিয়ে যাব। বাবা-মা আমার কথা বিশ্বাস করেনি, এখন হয়তো বিশ্বাস করবে কিন্তু করার কিছু নেই। আপনি অনেক ভালো মানুষ আপনাকে কষ্ট দেওয়ার কোন ইচ্ছেই আমার ছিলনা কিন্তু আমি বাধ্য। ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দেবো ভয়ের কিছু নেই, আপনি আমার চেয়েও ভাল কাউকে জীবনসঙ্গিনী করে নিবেন। কষ্টে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে, বুকের বা পাশে হাত দিয়ে চেপে ধরে রেখেছি তবে ব্যথা অনুভব হচ্ছে না, মন বলছে এক্ষুনি আমি হার্ট অ্যাটাক করব কিন্তু সেটাও হচ্ছে না। এই মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাক করে মরে যাওয়াটাই ভালো। সমাজে ...

ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ

 হাতজোড় করে কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে রঙ্গন। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে এমন কিছু বলতে চাচ্ছে যেটা সে বলতে ভীষণ সংকোচ বোধ করছে। এই বাড়ির কর্ত্রী গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, -কি হয়েছে, রঙ্গন? -আজ্ঞে গিন্নি মা, কথাটা যে কীভাবে বলি... -ভনিতা করবে না। যা বলার সরাসরি বলো। -সুনীল দাদা বাবু আর বৌদিকে দেখলাম উঠোনে বৃষ্টির মধ্যে নাচছে।  রুপাঞ্জনা দেবীর মনে হলো তিনি শুনতে ভুল করেছেন। নিশ্চিত হবার জন্য আবার জিজ্ঞেস করলেন, -কি করছে? -আজ্ঞে গিন্নি মা, বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ভিজে নাচছেন। ইশারা দিয়ে চলে যেতে বললেন রুপাঞ্জনা দেবী। তিনি উঁচু স্বরে পামেলাকে ডাকলেন। পামেলা এখানে কাজ করছে আজ প্রায় ৮ বছর হতে চলল।  -কিছু বলবেন, গিন্নি মা? -তোমার দাদা বাবু আর বৌদিকে এক্ষুণি আমার সামনে হাজির হতে বলো।  -জি আজ্ঞে। পামেলা দুইজনকে ডাকতে গিয়ে দেখল সুনীল দাদা আর সুহাসিনী বৌদি হাত ধরে উঠোনে গোল হয়ে ঘুরছেন। সুহাসিনী বৌদির মুখ সিঁদুরে লাল হয়ে আছে। দুইজনেই ভিজে জবজবে হয়ে আছে। মনে মনে একবার ছিঃ ছিঃ বলে উঠলো পামেলা। হঠাৎ হাত পিছলে সুনীল দাদা বাবু পড়ে গেলেন। মাটিতে মাখামাখি হয়ে গেছে তার শরীর। অমনি খিলখিল ...

হেরে যাওয়া প্রহর

  আদ্রিতার ঘর থেকে কথোপকথনের আওয়াজ ভেসে আসছে।মাঝেমাঝে চাপা হাসির শব্দ। মনে হচ্ছে দুজন খুব কাছের মানুষ কথা বলছে। আদ্রিতার বাবা আতিক সাহেব মেয়ের রুমে উঁকি দিলেন। কিন্তু বরাবরের মতোই ফলাফল শূন্য।আদ্রিতা একহাতে টেডিবিয়ার জড়িয়ে ধরে হেসে হেসে একাই কথা বলছে।ঘরে আর কেও নেই। আতিক সাহেব একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে নিজের রুমে ফিরে এলেন।খাটের পাশে দেয়ালে টানানো আদ্রিতার মায়ের ছবির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। আতিক সাহেবের বিশাল ব্যবসা। ধন-সম্পদের কমতি নেই।পরিবার বলতে একটা মাত্র মেয়ে। ওনার স্ত্রী আদ্রিতার জন্মের সময় মারা যান। সেই থেকে মেয়েটাকে একা একা বড়ো করেছেন।মেয়ের ছোট থেকে বড়ো সব রকমের চাওয়া পূরণ করেছেন।তিনি আদ্রিতাকে যেটা দিতে পারেননি সেটা হলো সময়। একটা মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে এতোটাই ব্যস্ত থেকেছেন যে বাড়িতে অপেক্ষারত ছোট্ট মেয়েটার কথাও ভুলতে হয়েছে।আতিক সাহেব যখন বাড়ি থেকে বেরোতেন তখন আদ্রিতা ঘুম থেকে উঠতো না।আবার রাতে যখন তিনি ফিরতেন তখনও সে ঘুমিয়ে যেত।কাজের মেয়ের সাথে কথা বলে বলে বড়ো হল আদ্রিতা। আদ্রিতা অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর একদিন ওর রুম থেকে কথাবার্তার আওয়াজ পান আতিক সাহেব।প্রথম...

হ্যাপি কাপল

ইদের দিন সকালে ঘুম ভেঙেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল রোমেলের। আট মাসের সিয়াম ঘুম ভেঙে উঠে তারস্বরে চেঁচাচ্ছে। রোমেল আধো ঘুম আধো জাগরণে হাতড়ে হাতড়ে ছেলের গায়ে হাত চাপড়ে ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গলা চড়িয়ে নীরাকে ডাকল। “নীরা! নীরা!” নীরা রান্নাঘর থেকেই গলা উঁচু করে বলল, “পায়েস পুড়ে যাবে আমার, দাঁড়াও!” পায়েস? ওহ! রোমেলের মনে পড়ল আজ তো ইদের দিন। উঠে বসে সিয়ামকে কোলে নিয়ে চুমু খেয়ে বলল, “ইদ মোবারক আব্বু!” সিয়ামকে কোলে নিতেই বিটকেল গন্ধ পেল সে। ব্যাটা বড় কাজ সেরেছে। এইজন্যই হৈচৈ করছে। ডায়াপার না বদলানো পর্যন্ত হাউকাউ করতেই থাকবে। রোমেল বাধ্য হয়ে মাথার পাশের সাইড টেবিল থেকে ডায়াপার আর ওয়েট টিস্যু নিয়ে ডায়াপার বদলাতে লেগে গেল সে। সিয়াম মনে হয় বুঝতে পেরেছে তার ডায়াপার বদলানো হচ্ছে। সে কান্নাকাটি থামিয়ে পিট পিট করে রোমেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। রোমেল হাসিমুখে বলল, “ইদ মোবারক ব্যাটা!” নীরা ঘেমে নেয়ে এসে ঘরে ঢুকল। রান্নাঘরে ঢুকলেই তার গরমে অস্থির লাগে। রোমেল বলল, “নাও তোমার ছেলে সামলাও, আমি গোসল করে নামাজে যাই!” হাত বাড়িয়ে ছেলেকে কোলে নিল নীরা। রোমেল গোসলে ঢুকতেই নীরার শাশুড়ি এসে বললেন, “বা...

রিং

(১) গভীর রাতে টেলিফোনের শব্দে আতঙ্কিত হবে না এমন মানুষের সংখ্যা এ পৃথিবীতে কম। আজগর ও এর ব্যতিক্রম নয়। তাকে সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি করতে হয়। সুতরাং রাতের ঘুমটা তার হয় খুব গাঢ়। সেই ঘুম কাটিয়ে যখন সে টেলিফোন ধরল, তখন টেলিফোন কানে নিয়ে সে নিজের হৃদপিন্ডের শব্দ শুনতে পাচ্ছিল। মনে হচ্ছে জিনিসটা বুক ফেটে বের হয়ে আসবে। হার্টের সমস্যা তাদের খানদানি অসুখ। তার দাদা এ রোগে মারা গেছে, তার তিন চাচা এই রোগে মারা গেছে। মনে হয় তার ভবিষ্যতেও একই ঘটনা ঘটবে। নিজেকে ধাতস্থ করে সে যখন, টেলিফোনের কথোপকথনে মন দিল, তখন তার বিছানার পাশের অ্যালার্ম ক্লকটিতে  বারোটা বেজে গেছে। যে খবর তার ছোটভাই শুনালো তাতে তার নিজেরও বারোটা বেজে যাবার জোগাড়। তার ছোট ভাই অত্যন্ত বাচাল একটা মানুষ। সামান্য কথা ফেনিয়ে ফেনিয়ে বিশাল লম্বা করে ফেলে। তার বাবার যে হার্ট এ্যাটাকের মত হয়েছে, এটা আবিষ্কার করতে তার পাঁচ মিনিট সময় নষ্ট হয়ে গেল। এ যাত্রায় তিনি টিকে গেছেন। তবে পুরোপুরি বিপদমুক্ত নয়। হার্টে একাধিক ব্লকেজ ধরা পড়েছে। জরুরী ভিত্তিতে মেডিকেটেড রিং পড়ানো দরকার। (২) তার পরিবারের সেই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স...

এক হাজার আয়নার বাড়ী

পাঠক, আপনি কখনও কোন বাড়ী দেখেছেন, যেখানে এক হাজারটি আয়না আছে?  এগুলো শুধু রূপকথাতেই পাওয়া যায়, তাইনা? না, তা সত্যি নয়। এ রকম বাড়ীও আছে। এক কুকুর গিয়েছিল এ রকম একটি বাড়ীতে বেড়াতে। ড্রইংরুমে ঢুকে তার চোখ কপালে উঠল। চারিদিকে অসংখ্য কুকুর তার দিকে তাকিয়ে হাসছে। কুকুর বলল, এত সুন্দর জায়গা আমি জীবনে কখনও দেখিনি। আমি এখানে আবারও আসব। কুকুর ফিরে এসে অন্য কুকুরকে বলল এ কাহিনী। সেই কুকুর বলল, তাই নাকি? আমিও যাব সেখানে। ড্রইং রুমে ঢুকে দেখে অসংখ্য কুকুর তারদিকে ঘৃণাভরে তাকিয়ে আছে। চোখে অহংকার, মুখ তিক্ত বিরক্ত। না, এখানে কোনদিন আমি আসবোনা। জঘন্য পরিবেশ। পাঠক, পৃথিবীটি অনেকটা সেই বাড়ীর মত যেখানে হাজারটি আয়না আছে।  আপনি যে চোখে পৃথিবীকে দেখবেন, পৃথিবীকে তাই মনে হবে। আপনি হাসুন, পৃথিবীটি স্বর্গ।  আপনি তিক্ত বিরক্ত হোন, পৃথিবীটি নরক। ( একটি বিদেশী গল্পের ছায়া অবলম্বনে ) লিখা:  তারিক হক

হাওয়া বদল

 "আরে মিরা না? হোয়াট এ সারপ্রাইজ! চিনতে পারছিস আমাকে?" পার্লারের সরু বিছানায় শুয়ে ফেসিয়ালের ম্যাসাজ নিচ্ছিলাম। মেয়েটা এতো যত্ন নিয়ে ম্যাসাজ দিচ্ছে যে আমি মনেহয় ঘুমিয়ে গেছিলাম আরামে। হঠাৎ নিজের নাম শুনে আমি চমকে তাকালাম। সামনে যে মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে তাকে চিনি বলে মনে হলো না। মসৃণ ত্বক, দীঘল কালো চুল, স্লিম ফিগারে ভীষণ রকম রুচিসম্মত একটা সালোয়ার কামিজ পরনে যা আনকমন ডিজাইনে বানানো, পায়ে স্লিপার। এসব কিছু ছাপিয়ে তার উজ্জীবিত চোখ দুটো নজরে এলো, আত্মবিশ্বাস যেন ঠিকরে পরছে। আমি বোকা বোকা মুখ করে বললাম- "আপনি কে? আমি কি আপনাকে চিনি?" "মডেল স্কুলের মিরা না তুই? হুটহাট ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারতি বলে সবাই তোকে মিরাকল মিরা বলতো। তোর বাবা মহিদুল ইসলাম।" "হুম। কিন্তু আপনি কে?" "আরে আমি কংকা, তোদের কংকাবতী। তোর সাথে স্কুলে পড়তাম, তারপর ক্লাস টেনে আচমকা স্কুল ছেড়েছিলাম। আরে পিদিমে দেখা হলো কয়েকবার, তোর চুল কেটে দিয়েছিলাম মনেপড়ে?" আমি সাথে সাথে চিনলাম এবং অবাক হলাম। যে কোনো কাজে কংকাকে সবার আগে আগে পাওয়া যেতো বলে স্কুলে টিচাররা ওকে কংকাবতী বলে ডাকতো। পারিবার...