Posts

Showing posts with the label অনুগল্প

নারী

 ইন্টারভিউ রুমে দেখে নিজের বসকে দেখে থমকে যায় সোহান।ইনিই তো সেই মেয়ে যাকে সে ভীড়ের মাঝে রাতের আধারে বাজে ভাবে হ্যারাস করছিলো।তার স্পর্শকাতর স্থানগুলো স্পর্শ করে নিজের লালসা মিটাচ্ছিলো!ইরা খুব ভালোভাবেই সোহানকে চিনতে পেরেছিলো।শুরুতেই কোনো সিনক্রিয়েট না করে সে অতি ভদ্রতার সাথে সোহানকে বসার অনুরোধ জানায়। "প্লিজ সিট।" সোহান বসে।ইরা কাগজপত্র দেখতে দেখতে বলে,,, "তো আপনিই সোহান মাহমুদ? " "জ্বী।" "প্রাতিষ্ঠানির শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া আপনার আর কোনো গুণ আছে?" "সব মানুষেরই আলাদা ট্যালেন্ট থাকে।আমারও আছে হয়তো।কিন্তু তা আমার জানা নেই।" বিচক্ষণতার সাথে উত্তর দেয় সোহান।ইরা তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে।বাঁকা হাসি দিয়ে বলে,,, "কিন্তু আমার জানা আছে।আপনি খুব ভালোভাবে মেয়েদের হ্যারাস করতে পারেন।আমি কালকে তার প্রমাণও পেয়েছি।" সোহান কি বলবে বুঝতে পারে না।মাথা নিচু করে বসে থাকে।ইরা আবার বলা শুরু করে,,, "ভাগ্যের কি অদ্ভুত খেলা তাই না?আপনি যাকে ভীড়ে যাকে কালকে হ্যারাস করলেন।যাকে ভোগের সামগ্রী ভাবলেন আজ সেই আপনার ইন্টারভিউ নিচ্ছে।বাট সরি টু সে আমি আপনাকে ...

ডিয়ার সাবলেট

 সপ্নীল ভাই আমাদের বাসায় সাবলেট হিসেবে আছেন প্রায় বছর তিনেক। তবে কিছুক্ষন আগে চলে গেলেন ,খুব খারাপ লাগছে আমার। রাজপুত্রের মতো চেহারা ছিলো ওনার। সারা বাংলাদেশ ঘুরলে এরকম সাতটা ছেলে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। ওনার সবই ভালো ছিলো শুধু একটাই সমস্যা। আমি ওনার সামনে আসলে সবসময় নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন। যেনো ওনার নজর পড়লে আমি ভস্মীভূত হয়ে যাবো। মাঝে মাঝে খুব রাগ হয় । একটা উড়ো চিঠি লিখে বলতে ইচ্ছে করতো- ডিয়ার সাবলেট, সপ্নীল ভাই।  আপনি কেনো আমার দিকে তাকান না ? আমি কি যথেষ্ট সুন্দরি নই? নাকি আমাদের বাসার কার্পেট অনেক সুন্দর যে কার্পেটের দিকেই তাকিয়ে থাকেন। ইতি গুণে অমুগ্ধ , ‘মনপুরা’। চিঠি লেখা আর হয়ে উঠলো না। আর মেসেজ দিলে কি মনে করবেন কে জানে? আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি ওনার প্রেমে পড়ে গেছি। মোটেও না। আমার প্ল্যান ছিলো আগে ওনাকে বিয়ে করবো তারপর প্রেম করবো। তবে আজ সকালে কলেজ যাবার পথে মায়ের একটা কথা শুনে আমার শীরদাড়ায় ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেলো। “মনপুরা শোন সপ্নীলের অবস্থা। এই পিচ্চি ছেলেটাকে ধরে ওর বাপ মা বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। সবে মাডিকেল স্টুডেন্ট । ছুটিতে বাড়ি গিয়ে শুনে –কোন আত্মীয়ের মেয়ে যেনো পছন্দ ...

অংশীদার

- এই মামা যাবা? আধবয়সী রিক্সাওয়ালা তোরাব আলী মুখ তুলে তাকালো। দুইজন ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। - কই যাইবেন? - নিউ মার্কেটের মোড়ে।  জায়গাটা এইখান হতে বেশ দূরে। ডাক্তার তোরাব আলীকে টানা ১৫-২০ মিনিটের বেশি রিক্সা না চালাতে বলেছেন। না হয় হার্টের সমস্যাটা বেড়ে যাবে। তাছাড়া এখন রোজার মাস। রোজা রেখে অতদূরে রিক্সা নিয়ে যাওয়া সম্ভবও না।  না বলতে গিয়ে তোরাব আলী হঠাৎ থেমে গেল।  তার দশ বছরী ছেলেটা এইবার ঈদে নতুন জামা চেয়েছে। গত ঈদেও ছেলেটাকে কিছু কিনে দিতে পারে নি তোরাব আলী। বৌ টাও প্রতি ঈদে নির্বিকার থাকে। ঈদের দিনে ওদের দিকে তাকানো যায় না। এইবার ছেলে এবং বৌ এর আবদার রাখবে ভেবেছে সে।  সে বলল, "যাবো মামা। চলেন।" ছেলেগুলো জিজ্ঞেস করল, "কত নিবা?" - আশি ট্যাকা। সবাই যা নেয় তোরাব আলী সেটাই বলেছে। কিন্তু না! ছেলেগুলো আশি টাকায় যেতে নারাজ।  - আশি টাকা? সামান্য এই রাস্তা। তুমি আশি টাকা নিবা? আসার সময় তো পঞ্চাশ টাকা দিয়ে আসলাম। তোরাব আলী স্পষ্টই বুঝতে পারছে ছেলেগুলো মিথ্যা বলছে। কারণ সে ভালোমতোই জানে এইখান হতে মার্কেটের মোড়ে কখনও পঞ্চাশ টাকা রিক্সা ভাড়া হয় না। সর্বনিম্ন সেটা সত্তর-আশি টাকায়...

চশমা

বাসর রাতে এমন একটা কান্ড হবে জীবনেও কল্পনাও করিনি। আমার বর সৌরভ আমাদের বাসর ঘরে না ঢুকে ঢুকেছে তারই বড় ভাবির রুমে। সৌরভ আর ওর বড় ভায়ের রুমটা পাশাপাশি।আর তাদের দুইটা রুম একই ফার্নিচার দিয়ে সাজানো। বড় ভাবি আর ভাইয়া নিচে একটা রুমে ঘুমিয়েছেন।তারা ভেবেছিলেন আজ যেহেতু আমাদের বাসর রাত তাই আমরা যেনো কোনোভাবে বিরক্ত না হয় তার জন্য আমাদের পাশের রুমে আজ আর তারা ঘুমাননি।কিন্ত একি আমি ফুল দিয়ে সাজানো বাসর ঘরে বসে অপেক্ষা করেই আছি আর ও দিকে রাত ১২ টা গড়িয়ে ১ টা , ১টা গড়িয়ে ২ এভাবে প্রায় রাত ৪ টা পর্যন্ত আমি জেগে বসে ছিলাম তার জন্য। তার পর কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি নিজেও জানিনা। সকালে উঠে দেখি সৌরভ নেই।তারমানে ও গতকাল রাতে এই রুমে আসেনি।আমি কিছুটা অবাক হলাম,তাহলে কী ওর এই বিয়েতে মত ছিলো না? যাই হোক তার থেকে বেশি অবাক হলাম যখন দেখলাম সৌরভ বড় ভাবির রুম থেকে বের হচ্ছে।ওকে দেখে কাঁদো কাঁদো মুখে বললাম, আমি গতকাল সারারাত আপনার জন্য অপেক্ষা করে ছিলাম, আপনি এলেন না যে? তবে কি আপনার এই বিয়েতে সম্মতি ছিলো না? সৌরভ অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো'কই আমিও তো তোমার জন্য অপেক্ষা করে ছিলাম তুমিও তো এলেনা,তা...

স্মরণীয় রাত

স্বামী-স্ত্রীর স্মরণীয় রাত জীবনে একবার হয়।কিন্তু আমার জিবনে আরেকটা স্মরণীয় রাত এসেছে।আর সেই রাত থেকে বাকী সবগুলো রাত আমার জন্য স্মরণীয় রাত হয়ে গেলো।আমি বিয়ে করেছি মাত্র দুইদিন।আমার স্ত্রী তেমন ফর্সা না।শ্যামলা, তবে আমার কাছে আমার স্ত্রীকে দেখলে খুব মায়া লাগে।সেই যখন ঘুমায় আমি তখন ইচ্ছা করে রাত জেগে তাকে দেখিয়।আমার চোখে চোখ পড়লে আমার স্ত্রী লজ্জা পায়।তাই আমি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি। রাতে খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে গেছে।আমার স্ত্রী ইফতি আক্তার (জান্নাত) সেই ঘুমাচ্ছে।ইফতি ঘুমানো অবস্থা আরো সুন্দর লাগে।এইদিকে আমার স্ত্রী লজ্জাবতী চোখে চোখ পড়লে লজ্জা করে তাই আমি রাত জেগে ইফতিকে দেখতেছি।দেখতে দেখতে কখন জানি ঘুম চলে আসছে আমার। রাত তখন ৩টা বাজে।ইফতি অামাকে বলে- - এইয় শুনছেন উঠুন না। - কেন!এতরাতে উঠে কি করবো? - নামাজ পড়তে। - মাত্র ৩টা বাজে এখন কিসের নামাজ। ফজরের আজান দিতে আরো দেরি আছে এখন ঘুমাও তো। - সেটা আমি জানি,তবে এখন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বো।তাড়াতাড়ি উঠেন। - তুমি পড়ো, আমি কালকে পরবো। - কালকে যদি আমি মারা যাই তাহলে কি করবেন। এই কথা শুনে অামার কেমন জানি খারাপ লাগছে কেন তা জান...