Posts

Showing posts with the label রম্যগল্প

আহাম্মক

 যাত্রাবাড়ী থেকে লোকাল বাসে উঠে উত্তরা যাচ্ছি। একটা মেয়েকে বেশ পছন্দ হয়েছে তাই মোবাইল বের করে চুরি করে দু একটা ছবি তোলার চেষ্টা করতে লাগলাম। কিন্তু একটু পরে তার পাশের সিটে একটা মহিলা উঠে বসাতেই আমি আর তাকে ভালো করে দেখতে পেলাম না।  আমার পাশেও একটা আঙ্কেল বসে আছে, আর মেয়েটার পাশে এক আন্টি। মনে মনে ভাবলাম এরা দুজন যদি একসঙ্গে বসতো তাহলে আমি আর মেয়েটা একসঙ্গে বসতে পারতাম।  জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে লাভ কি? মনকে সেই সান্তনা দিয়ে বসে আছি, প্রচুর জ্যামে আটকা পড়ে গেছে গাড়ি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে সামান্য আধা কিলোমিটার রাস্তা যেতে পারলাম না।  বাড়ি থেকে ভোরবেলা রওনা দিয়েছি তাই চোখে ঘুম টলমল করছে। কানে ইয়ারফোন গুঁজে দিয়ে তন্দ্রা লেগে গেল। কড়া ব্রেক কষলো ড্রাইভার, ঘুম ভেঙ্গে গেছে আমার। তাকিয়ে দেখি আমরা এখন রামপুরা চলে এসেছি।  হঠাৎ করে পাশের সিটে সেই মেয়েটাকে দেখে ভুত দেখার মতো চমকে গেলাম। মেয়েটা আমার পাশে কখন এলো? হায় আল্লাহ।  - রাতে কি চুরি করছেন? বাসের মধ্যে এভাবে কেউ ঘুমায় নাকি?  - ছি ছি চুরি করবো কেন? আমার দাদা গতবছর হজ্জ করে এসেছে। আমি কোনো অন্যায় করতে পারি নাকি?...

বাটন ফোন

 রাত ২ টা। চ্যাট অফ করে নিউজফিড স্ক্রল করছি এমন সময়ে জাহিনের মেসেজ, "জেগে আছো?? কী করো??" জাহিনের মেসেজ দেখেই শঙ্কিত হয়ে গেলাম। ভাবতে লাগলাম, আমার রাতে জেগে থাকা জানার এ কোনো নতুন ফাঁদ নয়তো!  সেই ভাবনা থেকেই মেসেজের রিপ্লাই দিবনা বলে ঠিক করলাম। আর তাই মেসেজটা সিনও করলাম নাহ। মিনিট দুয়েক পর গ্রুপে ভাইয়া মেসেজ দিল, " কাল তোমাদের অনলাইন ক্লাস হবেনা।" আমিতো খুশিতেই "আলহামদুলিল্লাহ " লিখে মেসেজ দিয়ে দিলাম।  মেসেজ দেওয়ার পর মনে হলো, " আরেহ! এ কি করলাম! গ্রুপে তো জাহিনও আছে। সে যদি এখন মেসেজ দেখে তাহলে আমি শেষ! " এসব ভাবতে ভাবতেই জাহিনের ফোন। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে অমুকের বাচ্চা তমুকের বাচ্চা বলে গালাগাল শুরু। আমি ঘুম ঘুম কণ্ঠে বলে উঠলাম, - এত রাতে ফোন দিয়ে গালি দাও কেন? - ওই চুপ। তোরে না কইসি রাত জাগবিনা। তাও তুই জেগে আছিস কোন সাহসে? - আমিতো ঘুমিয়েই ছিলাম। - তাহলে গ্রুপে মেসেজটা কে দিল শুনি? - আসলে ওয়াইফাই অফ না করেই ঘুমিয়ে গেছিলাম তাই মেসেজ আসার সাথে সাথে টুং আওয়াজ পেয়েই আরকি! - তাহলে আমারটার রিপ্লাই দিলি না কেন? - আসলে ব্যাপারটা হইসে কী শুনোওতো..... -...

একটি ডিপ্রেশনের গল্প

বিয়ের প্রথম দিনেই শ্বাশুড়ি আমার হাতে একটা কুন্চি ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলো, বউমা আমার ছেলেটা অবুজ।মাঝে-মধ্যে ওই নাটক-টাটোক দেখে একটু পাগলামো করে। যদি সামলাতে না পারো কুন্চিটা ব্যবহার কইরো। আমি ও সম্মান সূচক হাসি দিয়ে বলেছিলাম,আম্মা একদম চিন্তা করবেন না।এখন আমি এসে গেছি আপনার ছেলে আর কোন পাগলামি করবে না। ওটা বরং আপনার কাছেই রাখুন।কিন্তু শ্বাশুড়ি নাছোড় বান্দা।কুন্চিটা দিয়েই তারপর ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলো। জামাই দরজার কাছে এসেই চিল্লাতে লাগলো, কি করছেনটা কি? ঘোমটা দিন, ঘোমটা দিন। আমি কিছুটা ভয় পেয়ে চুপসে গেছি।ভয়ে বিছানার তলা থেকে কুন্চি খুঁজতে লাগলাম। শ্বাশুড়ি আম্মা হয়তো এই জন্যই কুন্চিটা দিয়ে গেছে।কুন্চিটা নিয়ে এখুনি মারা শুরু করবো কি না ঠিক বুঝতে পারছি না। তারপর জামাই নিজে এসে আমার হাতটা ধরে মাথায় ঘোমটা দিতে দিতে বললো, জানেন আমার ভিষণ শখ বউ ঘোমটা দিয়ে থাকবে আমি এসে ঘোমটা খুলবো।আপনি একটু লজ্জা পাবেন। আমিও পাবো। একটা নাটকে দেখেছিলাম,ব্লা ব্লা.... জামাই নাটকের গল্প শুরু করেছে।আপাততো কুন্চিটা আর কোন কাজে লাগেনি। কত সহজ সরলভাবে জামাই নাটকের গল্প করছে। আমিও মুদ্ধ হয়ে শুনছি। বলতে বলতে হঠাৎ চিৎকার দিয়ে উঠল...

লুঙ্গি

মায়ের সাথে আজকে বড় ভাই গেছিল পাশের বাসার এক আন্টির বাসায় ।আন্টির ছোট ছেলের বার্থডে ছিল। অনেক বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল বার্থডে সেলিব্রেশনের জন্য। আমি যেতে চাইছিলাম কিন্তু বাবা বাসার বাইরে কাজে গেছে,বাসায় একজনকে থাকতে হবে ।কি আর করার, আমি একটু ছোট তাই আমাকে রেখে গেল। যাওয়ার আগে ভাইয়ার প্রস্তুতি দেখে আমি হতবাক । যাইহোক বলিউডের সুপারস্টার শাহরুখ খানের মত নিজেকে তৈরি করে আনছিল জেন্টস পার্লারে গিয়ে ।খুব উৎসাহ নিয়ে গিয়েছিল । কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে বাসায় আসার পর ভাইয়ার চেহারা পাকা লঙ্কার মত করে রাখছে।ডিম নিয়ে বসে থাকা মুরগির মত ফোঁস ফোঁস করছে। আমি কিছুই বুঝলাম না।বার বার জিজ্ঞাস করছি ভাইয়া তোমার কি হয়েছে বল? ভাইয়া নিশ্চুপ ।এমন ভাবে চেয়ে আছে আমার দিকে, যেন যে কোন মুহূর্তে বোমা বিষ্ফোরনের মত বিষ্ফোরিত হয়ে যাবে। বুঝলাম সময় এখন সুবিধার না।মায়ের রুমে গিয়ে দেখলাম আম্মা ঘুমিয়ে পড়েছে।যাক মাকে আর জাগিয়ে তুললাম না। চুপচাপ ভাইয়ার পাশে গিয়ে বসলাম।একটু পরে কে যেন ফোন করল,ভাইয়া ফোনটা নিয়ে সোজা বাথরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। আমিও দরজায় গিয়ে কান পাতলাম। ভাইয়ার কথা গুলি এমন ছিল:- (আরে সোহা...

শৈশব

টেবিলে খেতে বসেছি৷ বাবা কখন পিছনে এসে দাড়িয়েছে সে খেয়ালের বালাই নেই। আমি টপাটপ গিলে চলেছি। পিছনে চোখ পরতেই গিলার স্পিড আশি পার আওয়ার থেকে শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে নিলাম। ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম; কি হইছে! এমনে চোখ বড়বড় করে তাকাই রইছো ক্যান? বাবা ভনিতার স্বরে টেনে টেনে বললো; আহা বাজান তুমি খাওন বন্ধ করলা ক্যান? খাও খাও আমি চোখ জুড়াইয়া তোমার খাওন দেখি। ইস কতো সুন্দর কইরা নিশ্চিন্তে আমার অকর্মা পোলাডা বইসা বইসা গিলছে তো গিলেই চলছে। গিলে গিলে আমায় ধ্বংস করতাছে। দেইখা-ই আমার চোখ জুড়াই যাইতাছে... তাৎক্ষণিক আমি খাবার প্লেট হাতে নিয়ে খটাস করে দাঁড়িয়ে গিলার স্পিড নব্বইতে উঠিয়ে বললাম; নেও হইছে! বইসা খাইলে তো তোমার চোখের উপর ঠাডা পরে, এইযে এহন খাড়াই খাড়াই খাইতাছি, হইছে এইবার শান্তি? বাপে চোখ গরম করে বিড়বিড় করতে করতে চলে গেলো.... ৪র্থ শ্রেনীতে উঠেছি তখন। এক রাত্রিবেলা বাবা আমায় টেনে এনে তার পাশে বসালো। মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বললো; শোন বাজান জীবনে তোরে আমার চেয়েও বড় হইতে হইবো বুচ্ছোস? বাবা সাধারত আমার সাথে এতো নমনীয় হয়ে কথা বলে না। সব সময় দৌড়ানির উপরেই রাখে। মা'কে নালিশের গোডাউন বানিয়ে ফেলে; ...

ওরে বাটপার

প্রচন্ড গরমে মেজাজটা এমনিতেই খারাপ হয়েছিল, তার ওপরে আবার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটির ফোনালাপ শুনে মেজাজটা আরো বিগড়ে যাচ্ছিল। ছেলেটি ফোনে বলছিলো... –না জান আমি তা বলিনি, প্লিজ বেবি রাগ করেনা। বললাম তো সরি। তুমি আমার কিউট বেবিনা, প্লিজ প্লিজ এমন করোনা।আর এমন হবেনা। প্রতিদিনের মতো আমি কলেজ থেকে বাসে করে ফিরবো । বাসে উঠেই ফাঁকা একটি সিটে বসে পরেছিলাম। বাস ছাড়ার অপেক্ষায় আছি। যখন বাসে উঠেছিলাম তখন অনেকগুলো সিট ফাঁকা ছিল। ৩/৪ মিনিটেই মানুষের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ। সিট তো ফাঁকা নেই এখন উল্টে বাসের রড ধরে দাঁড়িয়ে পরলো অনেকেই। এই প্রচন্ড গরমেও বাসের হেল্পার ছেলেটা চেচিয়ে চেচিয়ে বলছে... –দুই মিনিট আছে মাত্র আর তারাতাড়ি উঠুন। আসুন আসুন... শিক খালি, শিক খালি আছে। একটা মধ্যবয়সী লোক বাসে উঠেই হেল্পার ছেলেটির সাথে ঝামেলা বাঁধিয়ে দিল। – এই ছোকরা কই সিট খালি? চিল্লাইয়া চিল্লাইয়া বলছিস সিট খালি! কোথায় ফাঁকা সিট দেখা! –কাকু আপনি ভুল শুনছেন আমি কইছি শিক খালি। শিক ধইরা দাঁড়াইয়া যাইতে পারবেন। মধ্যবয়সী লোকটা রেগেমেগে নেমে গেল। আমি মনে মনে বললাম, ওরে বাটপাড়! আমার ঘারের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটির ফোনালাপ এখনো চলছেই...

সারপ্রাইজ গিফট

লাফাতে লাফাতে পাশের বাসার আন্টির কাছে যেয়ে বললাম আন্টি পেয়াজ দেনতো ঘরে পেয়াজ নাই। পাশ ফিরে তাকাতেই দেখলাম সুদর্শন এক যুবক সোফায় বসে গেম খেলছে আর বলছে ওই ওরে ধর ও যেনো পালাইতে না পারে, আরে আমারে সেফ কর এট্যাক দিয়ে দিলোতো। আমার মনে তখন ক্রিং ক্রিং করে প্রেমের ঘন্টি বেজে উঠলো। হাউ সুইট, আন্টির যে এতো সুন্দর একটা ছেলে আছে জানতাম নাতো। বেশ কিছুদিন হলো আন্টি আমাদের বাসায় আসেন না। কেনো আসেন না সেই কাহিনী আজ আমার কাছে পরিষ্কার হলো। আন্টির ছেলে রাজশাহী থেকে বাসায় এসেছে লকডাউনের ছুটিতে,এই হলো কারন। এর আগে প্রায় রোজই আন্টি আমাদের বাসায় এসে আমার সাথে গল্পগুজব করতেন আর আমাকে বলতেন, কি সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকিস মাঝেমধ্যে আমাদের বাসায় যেতেও তো পারিস! তোর আঙ্কেল থাকে অফিসে তোর ভাইয়া পড়াশোনার খাতিরে থাকে রাজশাহী আর আমি সারাক্ষণ বাসায় একা একা বোরিং ফিল করি। এতো বলা সত্ত্বেও আমি কখনোই আন্টির বাসায় গল্প করতে যেতাম না,কারণ মোবাইল রেখে দু-দন্ড থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু নাহ, আজ থেকে ভেবেছি রোজ আন্টির বাসায় তিনবার করে যাবো তার সাথে গল্পগুজব করতে। এতোদিন অনেক অমান্য করেছি তার কথা, কিন্তু আর করা যাব...

সীমিত আকারে বন্ধুত্ব

আজ সকাল থেকে আমার বাসায় টানটান উত্তেজনা পূর্ণ মিটিং শুরু হয়েছে। মিটিং এ উপস্থিত আছে আমার উকিল বাবা, তার প্রতিটা যুক্তি খন্ডন করে দেয়া আমার মা, আমার ছোটো বোন, দাদী আর স্বয়ং আমি নিজে। ইদানিং আমার বাসায় অদ্ভুত এক কান্ড শুরু হয়েছে। আমার দাদা যার বয়স কম করে হলেও সত্তর সে নিয়ম করে একটা নির্দিষ্ট সময়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায় আবার ঘণ্টা খানেক পর ফিরে আসে। এই কাজ তিনি দিনে দুইবার করেন। গত তিনদিন যাবৎ এসব শুরু হয়েছে। লকডাউন এর সময়ে এমন বয়স্ক একজন মানুষ রীতিমত নিয়ম করে বাইরে যাওয়া শুরু করেছে, এতো একটা আতঙ্কের ব্যাপার। তো যাই হোক, এটাই আজকে আমাদের মিটিং এর মূল কারণ। এই ঘটনার মূল উৎপত্তি স্থল মানে আমার দাদীকে তার মূল্যবান বক্তব্য পেশ করতে বলা হলো। আমার দাদীর বক্তব্য দাদা তাকে সন্দেহ করছেন তিনি নাকি ফেইসবুকে 'ড্যাশিং সুলেমান' নামক এক আইডি ধারীর সাথে রীতিমত প্রেম শুরু করেছেন, দাদা নাকি তার প্রমান স্বরূপ তার কাছে কিছু স্ক্রীন শট ও ধরিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু দাদীর বক্তব্য তিনি নির্দোষ। তাকে স্ক্রীন শট এর মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। দাদা ফিরে এলে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি আমাদের সবার ফোনেই দাদীর আই...

বাপ বেটার বাজি

ইদানিং আমি একটু বেশিই খাই। বাপ বেটা দুজনে বসে আছি খাবার টেবিলের সামনে। মা একটা গামলায় করে ভাত বেড়েছে ঠান্ডা করতে। প্রায় এক কেজি পরিমাণ চালের মত হবে। তবে পুরোপুরি না। বাপে বললো; আয় বাজি লাগবি? বললাম; কিসের বাজি? বাপে বললো; এই ভাতগুলা যদি খেতে পারিস তবে ১ হাজার টাকা দিবো। আর না পারলে তুই দিবি। রাজি? আমি গামলায় বারা ভাতের দিকে তাকালাম। খেতে একটু কষ্ট হবে, তবে অসম্ভব না। সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলাম। বললাম; ওকে আসো বাজি... বাপে ও সাথে সাথে গামলা ধরে সামনে দিলো। সাথে তরকারি আমার প্রিয় পাবদা মাছ ভুনা আর আলুর সাথে ডিম সিদ্ধ করে করা ঝোল। আমিও বিসমিল্লাহ্‌ বলে বসে গেলাম গামলা নিয়ে। ধিরে সুস্থে শুরু করলাম খাওয়া... আস্তে আস্তে গামলার ভাত কমতে লাগলো। পানি পিপাসা লাগলেও একটু করে শুধু গলা ভিজিয়ে নিচ্ছি। পানি বেশি খেলে পেটের জায়গায় কম পড়বে তাই এই ব্যবস্থা। শেষের দিকে বুঝলাম অল্প কিছু ভাত খুব প্যাঁড়া দিবে। দিতেও লাগলো। তবুও হাল ছাড়লাম না। খেয়ে উঠে গেলাম। দেখি পেট নিয়ে নড়তেই কষ্ট হচ্ছে। মা আমার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাঁঁকিয়ে আছে। বাপে সেম অবস্থা। বললাম; তাকাই থাইকা লাভ নাই টেকা দেও.... বাপে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়...