Posts

লজ্জা কমানোর ওষুধ

 বিয়ের গেইট ধরেছে কনে পক্ষরা৷ গেইটে ধরার টাকা হাতে নিয়ে জামাই পক্ষরা আইসক্রিম গানে ড্যান্স করছে৷ বর এর বন্ধুদের হাতে টাকা, দিতে চাচ্ছে কিন্তু দিচ্ছে না৷ হাত নাড়িয়ে, কোমর দুলিয়ে ড্যান্স করছে৷ অন্য দিকে কনের বান্ধবীরা টাকা নেয়ার জন্য হাত পেতেছে, কিন্তু নিচ্ছে না৷ তারাও হাত ঘুরিয়ে, কোমর দুলিয়ে নাচ্ছে৷ কি অদ্ভুত কান্ড! আমি কোন রকম এই অদ্ভুত কান্ডের পাশ কাটিয়ে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর প্রবেশ করেছি৷  পোলাও রোস্টের ঘ্রাণে বুক কেমন যেন করে উঠল৷  বাঙালির বিয়ের অনুষ্ঠানে আমার এই একটা জিনিস ভীষণ প্রিয়.. খাবারের লাজবাব ঘ্রাণ, আহ! চোখ বন্ধ করে ঘন এক শ্বাস টানতেই নাকে এলো সুস্বাদু কতসব খাবারের ঘ্রাণ৷ হঠাৎ কানে এলো চিৎকারের শব্দ! ‘চুপ! একদম চুপ! আপনার লাখ লাখ টাকায় আমি পেশাব করি৷’ আমি খানিকটা বায়ে ঘাড় বাকালাম৷ চল্লিশোর্ধ দু’জন লোক তুমুল ঝগড়া বাঁধিয়েছে৷ একজন চেচিয়ে বলছে, আপনার লাখ টাকায় আমি পেশাব করি৷ আরেকজন বলছে, আপনার ক্ষমতায় আমি থুথু ফেলি থুহ!  কয়েক জন মহিলা এংগ্রি অল্ড ম্যানদের থামানোর চেষ্টা করছে৷ বঙ্গ দেশের বিয়েতে ঝগড়া করাটা যেন ঐতিহ্য হয়ে গেছে৷ পথে ঘাটে দু’জন মানুষের ঝগড়া...

স্বৈরাচারী বয়ফ্রেন্ড

এমন স্বৈরাচারী বয়ফ্রেন্ড আমি কোন দিন দেখিনি! আমি নবনী।তখন ইন্টারে সবে মাত্র ভর্তি হয়েছি।আশেপাশে সবাই,এমন কি!আমার বেস্টুও প্রেম করে।তাই আমার প্রেম করা গুরুতর দায় হয়ে পড়ে।ক্লাস টেন উঠার পড় থেকে ওই স্বৈরাচারী মানুষটাকে আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়েছি।তাকে আমি পছন্দ করি,সে একটি বার যেন আমাকে প্রপোজ করে বা আমার সাথে কথা বলে।কিন্তু,কোন কাজই হচ্ছেনা। কেমনটা লাগে,এই স্বৈরাচারী মানুষটার জন্য অন্য ছেলেকেও মনে জায়গা দিতে পাচ্ছি নাহ্।স্বৈরাচারী মানুষটার নাম হচ্ছে মুহিব রহমান৷ তাকে কেন স্বৈরাচারী বলছি তা আপনারা একটু পরই বুঝতে পারবেন। শেষমেশ ইন্টার ফাইনাল দিব তার মাস চারেক আগে তিনি আমাকে গভীর রাতে কল করে। তারপর থেকে শুরু এই স্বৈরাচারী সাথে পথচলা....।প্রেম করার আগে ভাবতাম আহ্ তাকে পেলে জীবনটা কত শান্তিই না পাবে।সারারাত কথা বলব,ঘুরবো ইচ্ছা মত,ঘন্টার পর ঘন্টা রেস্টুরেন্টে কাটাব।কিন্তু এমন কিছুই হয় নাহ্।যখন আমি সেই একটা ঘুমের ঘুরে আচ্ছন্ন থাকি। তখন সে ভোরে ফোন করে বলবে,শারিরীক সমস্যা না থাকলে ঘুম থেকে ওঠে নামাজ পড়ে,বই নিয়ে পড়তে বস।আবার যখন সন্ধ্যায় দিকে খুব মন দিয়ে টিভি দেখি,তখন তিনি ফোন দিয়ে ইমোশনাল ভাবে বলবে,আ...

অ-প্রেমিক

 প্রিয়তমা মায়া আমার  সামনে দাঁড়িয়ে নির্লজ্জের মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ওর চোখ থেকে গড়গড় করে পানি ঝড়ছে দেখে আমার প্রচণ্ড লাগলেও আমি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। ঠিক যেন একটা মূর্তি আমি। কত কথা বলার কথা আমার অথচ আমি চুপ।     মায়ার কান্না আমি কখনওই সহ্য করতে পারিনা। ওর সামান্য মন খারাপ বা একটু অসুস্থতা আমি মেনে নিতে পারিনা। আমার প্রচণ্ড খারাপ লাগে। অথচ এই মেয়েটা আজ আমার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। সুন্দর মুখটা লাল হুয়ে আছে। চোখের নিচ টা কালোরঙ ধারণ করছে। চেহারা দেখে বোঝায় যাচ্ছে কয়েকদিন ঠিকমতো খাবার খায় না। টইটম্বুর মুখখানা আর রক্তে পরিপূর্ণ হাতের আঙুল গুলো একদম শীর্ণ। মাটির দিকে তাকিয়ে আছে আর কাঁদছে। এতক্ষণে আমি মায়ার দিকে তাকালাম তারপর একটা শুকনো হাসি দিয়ে বললাম। - মায়া বাস্তবতা মেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তুমি বুদ্ধিমতী একটা মেয়ে, তোমাকে যে মেনে নিতেই হবে।  - আমি আপনাকে হারাতে পারবোনা।  - মায়া তোমাকে পাবার যোগ্যতা আর তোমাকে দেবার মতো স্বামর্থ যে আমার নেই।  - আমি তো আপনার কাছে কিছুই চাইনি। শুধু আপনাকে চেয়েছি, আমার কিছুই লাগবেনা। শুধু আমাকে ভালোবেসে আপনার বুকে...

জীবন থেকে নেয়া

আজ থেকে নয়/দশবছর আগে আমার মায়ের নাম্বারে একটা আননোন নাম্বার থেকে কল আসতো প্রায়ই। মা এমনিতে বেশ খিটখিটে মেজাজের হলেও অপরিচিত কারো সাথে ফোনে কথা বলার সময় সুন্দর করে সালাম দিয়ে কথা শুরু করেন। বলে রাখা ভালো, আমার মায়ের কণ্ঠস্বর ছিল বয়সের তুলনায় বেমানান। মানে সেই বয়সেও তার কণ্ঠস্বর শুনে কেউ আন্দাজ করতে পারতো না যে এই মহিলার স্কুল কলেজ পড়ুয়া তিনটে কন্যাসন্তান এবং একটা পুত্রসন্তান রয়েছে। আমাদের দুই বোনের ধারণা ছিল, সেই আননোন নাম্বারের মালিক মায়ের কণ্ঠ শুনেই হয়তো নিয়ম করে কল দিতে শুরু করেছেন। মায়ের সাথে ব্যাপারটা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে না পারলেও আমি আর বড় আপা সময় পেলেই এটা নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে দিতাম। বড় আপা বলতো, - শোন রুনু, বিয়ের আগে মাকে নিশ্চয়ই কেউ পছন্দ করতো। এ কাজটা সে ব্যক্তিরই।  বড় আপার কথা শুনে আমি চোখমুখ কুঁচকে দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বলতাম, - আমার কিন্তু তা মনে হয় না আপা। ওই লোক মায়ের কণ্ঠ শুনেই ঘায়েল হয়ে গেছে। পূর্বপরিচিত কেউ না।  আমাদের কথোপোকথন শুনে শিলা অবুঝ দৃষ্টি নিয়ে আমাদের দিকে অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকতো। বুঝতো না তো কিছু। বয়স ছিল মাত্র সাত কি আট বছর। একদিন বিকেলে বেলকনিতে...

ডিয়ার সাবলেট

 সপ্নীল ভাই আমাদের বাসায় সাবলেট হিসেবে আছেন প্রায় বছর তিনেক। তবে কিছুক্ষন আগে চলে গেলেন ,খুব খারাপ লাগছে আমার। রাজপুত্রের মতো চেহারা ছিলো ওনার। সারা বাংলাদেশ ঘুরলে এরকম সাতটা ছেলে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। ওনার সবই ভালো ছিলো শুধু একটাই সমস্যা। আমি ওনার সামনে আসলে সবসময় নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন। যেনো ওনার নজর পড়লে আমি ভস্মীভূত হয়ে যাবো। মাঝে মাঝে খুব রাগ হয় । একটা উড়ো চিঠি লিখে বলতে ইচ্ছে করতো- ডিয়ার সাবলেট, সপ্নীল ভাই।  আপনি কেনো আমার দিকে তাকান না ? আমি কি যথেষ্ট সুন্দরি নই? নাকি আমাদের বাসার কার্পেট অনেক সুন্দর যে কার্পেটের দিকেই তাকিয়ে থাকেন। ইতি গুণে অমুগ্ধ , ‘মনপুরা’। চিঠি লেখা আর হয়ে উঠলো না। আর মেসেজ দিলে কি মনে করবেন কে জানে? আপনারা হয়তো ভাবছেন আমি ওনার প্রেমে পড়ে গেছি। মোটেও না। আমার প্ল্যান ছিলো আগে ওনাকে বিয়ে করবো তারপর প্রেম করবো। তবে আজ সকালে কলেজ যাবার পথে মায়ের একটা কথা শুনে আমার শীরদাড়ায় ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেলো। “মনপুরা শোন সপ্নীলের অবস্থা। এই পিচ্চি ছেলেটাকে ধরে ওর বাপ মা বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। সবে মাডিকেল স্টুডেন্ট । ছুটিতে বাড়ি গিয়ে শুনে –কোন আত্মীয়ের মেয়ে যেনো পছন্দ ...

চলে যাওয়ার আগে-পরে

ফোন ধরেই এশার বাবা বলল, ‘হ্যালো, কে বলছেন?’ আমি ফোন কেটে দিলাম। আমার প্রয়োজন এশাকে, তাকে না। সুতরাং তার সাথে কথা বলার কোন মানে নেই। এশার বাবা খুবই রাগী মানুষ। বুদ্ধিমানও। সে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে কে ফোন করেছে। এখন সে  চিল্লাচিল্লি শুরু করবে। এশাও বুঝে যাবে কে ফোন করেছিল— পরমুহূর্তেই সে আমাকে ফোন করবে। হলোও তাই। কিছুক্ষণ পর এশা ফোন করলো— ‘হ্যালো...’ এই মেয়েটার গলা এমন, শুনলেই মন ঠান্ডা হয়ে যায়। আমার মন ঠান্ডা হলো, কথা বলতে ইচ্ছে হলো না। ‘কি হলো কথা বলছো না কেন?’ ‘শুনছি।’ ‘কি শুনছো?’ ‘কথা।’ লম্বা করে দম নিলাম— ‘তোমার কথা শুনছি।’ ওপাশে এশাও চুপ করে রইলো। মেয়েটা খুব আবেগি।  প্রায়ই আবেগে কেঁদে ফেলে।  আমি নিশ্চিত তার চোখে পানি চলে এসেছে। ‘এশা।’ ‘হু..’ ‘ক'টা বাজে?’ ‘দশটা বায়ান্ন।’ একটু থামে এশা তারপর বলে, আমি বুঝতে পারছি তুমি কিছু বলতে চাও— আমি কোন বিশেষ কথা বলবে?’ ‘একটা কঠিন কথা বলবো।’ ‘তোমার কঠিন কথা কি তা আমি জানি।’ ‘সেটা বলবো না, অন্য কথা বলবো। কাজের কথা। এমন কথা যা তোমাকে আগে কখনো বলিনি— শুনবে?’ ‘বলো।’ ‘কাল সকাল আটটার পরে তুমি আমার বাসায় আসবে। একা আসবে না। তোমার বন্ধু আছে না...

কন‍্যা ও জননী

  ভাবী আজ ও খাওয়ার সময় চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলো।  কলেজ থেকে এসে খেতে বসেছিলাম। প্লেট হাতে ড্রইং রূমে চলে এলাম। শব্দ করে ওর বেডরুমের দরজা বন্ধ করলো। কলেজ ফেরত আমার ভীষণ খিদে পায় রোজ।খিদের ও তেমন দোষ নেই। সকাল ছয়টায় উঠে ঘর ঝাড়ু দিয়ে মুছে, সকালের নাস্তা বানিয়ে টেবিলে সাজিয়ে তবেই ভাবীর হাত থেকে নিস্তার। না হয় কথার তোড়ে মা মেয়ে পেরে উঠি না। খালু মানে আমার সৎ বাবা সারাদিন ই পান চিবাতে থাকে। ভাইয়া ভাবীর অত‍্যাচার দেখে এবং শুনে নিবিড়ভাবে পান চিবানোর গতি ই বাড়ে শুধু আর কোন প্রতিউত্তর আসে না। ফলে দিন দিন আমরা কোণঠাসাই হচ্ছি । তাড়াহুড়ো করে দুটো রূটি চায়ে চুবিয়ে গলাধঃকরণ করে নাজমুল স‍্যারের ব‍্যাচ এ পড়তে যাই।  রিকশায় গেলে বিশ টাকা ভাড়া। হাতে বিশ মিনিট সময় নিয়ে তাই শর্টকাট গলির ভেতর দিয়েই চলে যাই। কোচিং শেষে কলেজ। ক্লাস শেষে একটা ডাল পুরী আর হাফ লিটার পানি খেয়ে খিদে টাকে বশে আনি। ওখান থেকে চকবাজারের টিউশনি সেরে বাসায় ফিরতে দুপুর তিন টে বেজে যায়।  ততক্ষণে পেটে ছুঁচোর দৌড় শুরু হয়। দিনে একটার বেশি নাস্তা কিনতে ও ইচ্ছে করে না।টিউশনির টাকাটা জমাতে ভালো লাগে। আম্মুর শাড়ি, আমার ড্রেস ...

রসিকতা

 বিয়ের পরদিন সকাল ঘুম থেকে জেগে পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখি বউ নেই বিছানায়, একটি সাদা কাগজ রয়েছে ভাজ করা। দেয়াল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি বরাবর ছয়টা বাজে, এত সকাল বেলা যাবে কোথায়?। নিজের মনে প্রশ্নটা করার সঙ্গে সঙ্গেই হৃদপিণ্ড কেঁপে উঠলো। হে খোদা যা ভাবছি তা যেন না হয়, শকুনের দোয়ায় কি গরু মরে?। কাগজটা হাতে নিয়ে ভাঁজ খুলে লিখা গুলো পড়তে লাগলাম।  আমাকে ক্ষমা করে দিবেন, আমি আপনাকে বিয়ে করতে চাই নি, বাবা-মা জোর করে বিয়ে দিয়েছে। বিয়ের আগে আমি বাবা-মাকে বলেছিলাম আমার পছন্দের ছেলের সঙ্গে বিয়ে না দিলে বিয়ের পরদিন পালিয়ে যাব। বাবা-মা আমার কথা বিশ্বাস করেনি, এখন হয়তো বিশ্বাস করবে কিন্তু করার কিছু নেই। আপনি অনেক ভালো মানুষ আপনাকে কষ্ট দেওয়ার কোন ইচ্ছেই আমার ছিলনা কিন্তু আমি বাধ্য। ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দেবো ভয়ের কিছু নেই, আপনি আমার চেয়েও ভাল কাউকে জীবনসঙ্গিনী করে নিবেন। কষ্টে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে, বুকের বা পাশে হাত দিয়ে চেপে ধরে রেখেছি তবে ব্যথা অনুভব হচ্ছে না, মন বলছে এক্ষুনি আমি হার্ট অ্যাটাক করব কিন্তু সেটাও হচ্ছে না। এই মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাক করে মরে যাওয়াটাই ভালো। সমাজে ...

একটা সংসার

 পাত্রীপক্ষের সামনে বসে আছি। সামনে আনা হলো পাত্রীকে। পাত্রী দেখে সবাই অবাক। পাত্রীর এক পায়ে সমস্যা আছে। খাবার সামনে। পাত্রী দেখে খাবার কেউ মুখে দিলো না। পাত্রীপক্ষের বুঝতে আর বাকী রইলো না যে পাত্রী আমাদের পছন্দ হয়নি। আমি ইশারা দিয়ে খেতে বললাম। মা খাবার মুখে নিলো। আর আমার ছোট মামা খাবার খেতে রাজী না। আমাদের ভাব লক্ষন দেখে পাত্রীর চোখে পানি আসলো। যেটা আমার চোখ থেকে আড়াল হয়নি। আমি সবার অনুমতি নিয়ে পাত্রী নিয়ে ছাদে গেলাম। দুজনেই চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি। নীরবতা ভেঙে পাত্রী ই কথা বলতে শুরু করলো। চোখের পানিতে কাজল গলে গিয়েছে। কিন্তু নিচে পড়তে পারছে না মেয়েটির আটকে রাখার আপ্রান চেস্টায়। কথা বলার আগে ঠোঁট হাজারবার কাঁপছে। গলাটাও কান্না চেপে রাখার জন্য কাঁপছে। আমি মেয়েটাকে পর্যবেক্ষণ করছি।  - দেখুন আমি জানি এইবারেও আমি রিজেক্টেড হবো। এই পর্যন্ত আমাকে ২৮ বার রিজেক্ট করা হয়েছে।  - কি কি রান্না পারেন আপনি??  - জি?  - বলেছি আপনি কি কি আইটেম রান্না পারেন? মানে আমি অনেকটা ভোজনরসিক মানুষ। তাই জিজ্ঞেস করছিলাম আর কিহ। রান্না করতে পারেন?  মেয়েটা কিছুটা অবাক হয়ে বললো, - জি আমি সব ধ...

ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ

 হাতজোড় করে কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে রঙ্গন। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে এমন কিছু বলতে চাচ্ছে যেটা সে বলতে ভীষণ সংকোচ বোধ করছে। এই বাড়ির কর্ত্রী গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, -কি হয়েছে, রঙ্গন? -আজ্ঞে গিন্নি মা, কথাটা যে কীভাবে বলি... -ভনিতা করবে না। যা বলার সরাসরি বলো। -সুনীল দাদা বাবু আর বৌদিকে দেখলাম উঠোনে বৃষ্টির মধ্যে নাচছে।  রুপাঞ্জনা দেবীর মনে হলো তিনি শুনতে ভুল করেছেন। নিশ্চিত হবার জন্য আবার জিজ্ঞেস করলেন, -কি করছে? -আজ্ঞে গিন্নি মা, বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ভিজে নাচছেন। ইশারা দিয়ে চলে যেতে বললেন রুপাঞ্জনা দেবী। তিনি উঁচু স্বরে পামেলাকে ডাকলেন। পামেলা এখানে কাজ করছে আজ প্রায় ৮ বছর হতে চলল।  -কিছু বলবেন, গিন্নি মা? -তোমার দাদা বাবু আর বৌদিকে এক্ষুণি আমার সামনে হাজির হতে বলো।  -জি আজ্ঞে। পামেলা দুইজনকে ডাকতে গিয়ে দেখল সুনীল দাদা আর সুহাসিনী বৌদি হাত ধরে উঠোনে গোল হয়ে ঘুরছেন। সুহাসিনী বৌদির মুখ সিঁদুরে লাল হয়ে আছে। দুইজনেই ভিজে জবজবে হয়ে আছে। মনে মনে একবার ছিঃ ছিঃ বলে উঠলো পামেলা। হঠাৎ হাত পিছলে সুনীল দাদা বাবু পড়ে গেলেন। মাটিতে মাখামাখি হয়ে গেছে তার শরীর। অমনি খিলখিল ...

চাওয়া

 পাউরুটিতে জেলি মাখতে মাখতে বড়ভাই রুহান জিজ্ঞেস করলেন, -আজকে আল্লাহর কাছে কি চাইলি? রাশেদ খুব সহজ ভঙ্গিতে বলল, -আমি ঠিক করেছি আজকে থেকে আর আল্লাহর কাছে কিছু চাইবো না। রুহান জেলি মাখানো বাদ দিয়ে রাশেদের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। এরপর পাউরুটিতে এক বাইট দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, -তা তোর এই মহৎ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য টা জানতে পারি? -হ্যা, আমি চাইলেও তো আল্লাহ সেটা দেয় না। তাহলে চেয়ে কি লাভ? -আচ্ছা, তুই কি আল্লাহর কাছে এটা চেয়েছিলি তোর হাত পা ঠিকঠাক থাকুক, চোখের দৃষ্টি থাকুক? -না, চাওয়ার কি হলো? এটা তো এমনিতেই পেয়ে গেছি। -বাবা মা তোকে এত যত্ন নিয়ে বড় করুক, কিংবা এইযে অক্সিজেন নিচ্ছিস সেটা চেয়েছিলি? -না। -এই যে খাবার টা খাচ্ছিস সেটাও কি আলাদা করে চেয়েছিলি? রাশেদ এবার ভাইয়ের দিকে তাকাল। রুহান আবার বলল, -এমন অনেক কিছুই আছে যেটা তুই চাস নি অথচ আল্লাহ তোকে দিয়েছে। আর মোনাজাতে আল্লাহর কাছে যা ই চাস না কেন সেটা বিফলে যায় না।  -কীভাবে? আমি তো আল্লাহর কাছে চাইলাম আমার চাকরিটা যেন হয়ে যায়। সেটা তো হলো না। রুহান এবার একটু হেসে বললেন, -সেই সাথে তোর খুব বড় একটা এক্সিডেন্ট হতে নিয়েছিল সেটাও কিন্তু হয় ন...

হেরে যাওয়া প্রহর

  আদ্রিতার ঘর থেকে কথোপকথনের আওয়াজ ভেসে আসছে।মাঝেমাঝে চাপা হাসির শব্দ। মনে হচ্ছে দুজন খুব কাছের মানুষ কথা বলছে। আদ্রিতার বাবা আতিক সাহেব মেয়ের রুমে উঁকি দিলেন। কিন্তু বরাবরের মতোই ফলাফল শূন্য।আদ্রিতা একহাতে টেডিবিয়ার জড়িয়ে ধরে হেসে হেসে একাই কথা বলছে।ঘরে আর কেও নেই। আতিক সাহেব একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করে নিজের রুমে ফিরে এলেন।খাটের পাশে দেয়ালে টানানো আদ্রিতার মায়ের ছবির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। আতিক সাহেবের বিশাল ব্যবসা। ধন-সম্পদের কমতি নেই।পরিবার বলতে একটা মাত্র মেয়ে। ওনার স্ত্রী আদ্রিতার জন্মের সময় মারা যান। সেই থেকে মেয়েটাকে একা একা বড়ো করেছেন।মেয়ের ছোট থেকে বড়ো সব রকমের চাওয়া পূরণ করেছেন।তিনি আদ্রিতাকে যেটা দিতে পারেননি সেটা হলো সময়। একটা মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে এতোটাই ব্যস্ত থেকেছেন যে বাড়িতে অপেক্ষারত ছোট্ট মেয়েটার কথাও ভুলতে হয়েছে।আতিক সাহেব যখন বাড়ি থেকে বেরোতেন তখন আদ্রিতা ঘুম থেকে উঠতো না।আবার রাতে যখন তিনি ফিরতেন তখনও সে ঘুমিয়ে যেত।কাজের মেয়ের সাথে কথা বলে বলে বড়ো হল আদ্রিতা। আদ্রিতা অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর একদিন ওর রুম থেকে কথাবার্তার আওয়াজ পান আতিক সাহেব।প্রথম...

হ্যাপি কাপল

ইদের দিন সকালে ঘুম ভেঙেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেল রোমেলের। আট মাসের সিয়াম ঘুম ভেঙে উঠে তারস্বরে চেঁচাচ্ছে। রোমেল আধো ঘুম আধো জাগরণে হাতড়ে হাতড়ে ছেলের গায়ে হাত চাপড়ে ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গলা চড়িয়ে নীরাকে ডাকল। “নীরা! নীরা!” নীরা রান্নাঘর থেকেই গলা উঁচু করে বলল, “পায়েস পুড়ে যাবে আমার, দাঁড়াও!” পায়েস? ওহ! রোমেলের মনে পড়ল আজ তো ইদের দিন। উঠে বসে সিয়ামকে কোলে নিয়ে চুমু খেয়ে বলল, “ইদ মোবারক আব্বু!” সিয়ামকে কোলে নিতেই বিটকেল গন্ধ পেল সে। ব্যাটা বড় কাজ সেরেছে। এইজন্যই হৈচৈ করছে। ডায়াপার না বদলানো পর্যন্ত হাউকাউ করতেই থাকবে। রোমেল বাধ্য হয়ে মাথার পাশের সাইড টেবিল থেকে ডায়াপার আর ওয়েট টিস্যু নিয়ে ডায়াপার বদলাতে লেগে গেল সে। সিয়াম মনে হয় বুঝতে পেরেছে তার ডায়াপার বদলানো হচ্ছে। সে কান্নাকাটি থামিয়ে পিট পিট করে রোমেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। রোমেল হাসিমুখে বলল, “ইদ মোবারক ব্যাটা!” নীরা ঘেমে নেয়ে এসে ঘরে ঢুকল। রান্নাঘরে ঢুকলেই তার গরমে অস্থির লাগে। রোমেল বলল, “নাও তোমার ছেলে সামলাও, আমি গোসল করে নামাজে যাই!” হাত বাড়িয়ে ছেলেকে কোলে নিল নীরা। রোমেল গোসলে ঢুকতেই নীরার শাশুড়ি এসে বললেন, “বা...

আলোয় ফেরার দিন

আজ দুপুরে আমার বাবা বাড়ীর সকলের সামনে আমার মাকে একটা চড় মারলেন। আমার মা বাবার চড় খেয়ে কয়েক সেকেন্ড হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে থেকে যেন কিছুই হয়নি এমন একটা ভাব করে যে কাজটা করছিলেন সেটাই আবার মনোযোগ সহকারে করতে লাগলেন। আজ বিয়ের পর আমি প্রথম আমার স্বামী রেজাকে নিয়ে আমার বাবার বাড়ীতে এসেছি। আমার স্বামী বাবার এহেন কান্ড দেখে এতোই অপ্রস্তুত হয়ে গেল যে, মনে হলো সে বোধহয় আমাদের বাড়ীতে নয় বরং ভুল করে অন্য কোনো গ্রহে চলে এসে এসেছে।   রেজার এমন অপ্রস্তুত ভঙ্গি দেখে আমার ছোট বোন লামিয়া মাকে শুনিয়ে শুনিয়ে একটু বাঁকা কণ্ঠে বললো, দুলাভাই আপনি শুধু শুধু মন খারাপ করছেন। আমার মায়ের বাবার এসব বাজে ব্যবহার সহ্য করবার অনেক আগে থেকেই অভ্যাস আছে। আজ তো তবুও মায়ের হাত থেকে দামী ফুলদানীটা পড়ে ভেঙেছে বলে বাবা মায়ের সাথে এমন ব্যবহার করলো। অন্যদিন তো তরকারিতে একটু লবণ কম বেশী হলেও বাবার এমন দুচারটা চড় থাপ্পড় মাকে হজম করতে হয়। লামিয়ার এই ধরনের কথা শুনে আমি একটু সচকিত হয়ে চারপাশে তাকালাম। ভাগ্য ভালো বাবা আশেপাশে নেই। বোধহয় জোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে গেছেন। অনেক ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি বাবা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মি...

স্ত্রী

"অফিসে এসে চেয়ারে বসতেই আমার স্ত্রীর কল । কল রিসিভ করলাম আমি । আজ বউয়ের কন্ঠ কেমন অস্বাভাবিক লাগছিল । খুব মলিন কন্ঠে বলে... - অফিসে ঠিক ভাবে পৌঁছেন । দুপুরে সময় করে টিফিন খেয়ে নিবেন। বিয়ের ৩ বছর হয়ে গেছে কিন্তু আমাদের ভালোবাসার একটুও কমে নাই । অফিসে পৌঁছানোর পর শুধু কল করে জিঙ্গাসা করছে পৌঁছেছি কিনা, কখনো বলে না দুপুরে খেয়ে নিবেন ।  বরং সে দুপুরেই কল করে বলতো খেয়েছি নাকি! কপাল ভাঁজ করে বলি... - তুমি ঠিক আছো তো। - হুম, আমি ঠিক আছি । আপনি সময় মতো খেয়ে নিবেন । বেশি রাত করে ফিরবেন না । তারাতারি আসার চেষ্টা করবেন। - তুমি কি একটু লুকাচ্ছো । তোমার কন্ঠ অন্য দিনের থেকে আজ ভিন্ন রকম শুনাচ্ছে। তুমি কি অসুস্থ? আমার প্রশ্নে তোতলাতে থাকে সে।আমতা আমতা করে বলে... - একটু অসুস্থ  । তুমি চিন্তা করো না । ঔষধ নিছি ঠিক হয়ে যাবো। দুপুরের টিফিন ব্রেকে বসের সাথে দেখা করি । আমাকে দেখতেই সে বসতে বলে।আমি অল্প নড়েচড়ে বসে বললাম... - স্যার আজ একটু আগেই ছুটিটা ফেলে খুশি হতাম । আমার স্ত্রী অসুস্থ। - বুঝলাম না! আপনার স্ত্রী অসুস্থ আপনি বাসায়  যেয়ে করবেন কি? স্ত্রীর সাথে কি হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবেন নাকি...

বাটন ফোন

 রাত ২ টা। চ্যাট অফ করে নিউজফিড স্ক্রল করছি এমন সময়ে জাহিনের মেসেজ, "জেগে আছো?? কী করো??" জাহিনের মেসেজ দেখেই শঙ্কিত হয়ে গেলাম। ভাবতে লাগলাম, আমার রাতে জেগে থাকা জানার এ কোনো নতুন ফাঁদ নয়তো!  সেই ভাবনা থেকেই মেসেজের রিপ্লাই দিবনা বলে ঠিক করলাম। আর তাই মেসেজটা সিনও করলাম নাহ। মিনিট দুয়েক পর গ্রুপে ভাইয়া মেসেজ দিল, " কাল তোমাদের অনলাইন ক্লাস হবেনা।" আমিতো খুশিতেই "আলহামদুলিল্লাহ " লিখে মেসেজ দিয়ে দিলাম।  মেসেজ দেওয়ার পর মনে হলো, " আরেহ! এ কি করলাম! গ্রুপে তো জাহিনও আছে। সে যদি এখন মেসেজ দেখে তাহলে আমি শেষ! " এসব ভাবতে ভাবতেই জাহিনের ফোন। রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে অমুকের বাচ্চা তমুকের বাচ্চা বলে গালাগাল শুরু। আমি ঘুম ঘুম কণ্ঠে বলে উঠলাম, - এত রাতে ফোন দিয়ে গালি দাও কেন? - ওই চুপ। তোরে না কইসি রাত জাগবিনা। তাও তুই জেগে আছিস কোন সাহসে? - আমিতো ঘুমিয়েই ছিলাম। - তাহলে গ্রুপে মেসেজটা কে দিল শুনি? - আসলে ওয়াইফাই অফ না করেই ঘুমিয়ে গেছিলাম তাই মেসেজ আসার সাথে সাথে টুং আওয়াজ পেয়েই আরকি! - তাহলে আমারটার রিপ্লাই দিলি না কেন? - আসলে ব্যাপারটা হইসে কী শুনোওতো..... -...